বৃষ্টি হলেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা

ঈদ যাত্রায় বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে পড়বেন বাসে গ্রামে ফেরা উত্তর বঙ্গের মানুষ। এমনটাই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ আর উন্নয়ন কাজের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের কয়েকটি অংশে যানজট নিয়মিতই লেগে থাকে।
 
এ দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে নিজেও রাস্তায় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনে  ঈদের দিনও চলবে কর্মযজ্ঞ। আর সে কাজে থাকবেন তিনি নিজেও।
 
ঈদের আগেই সড়ক সংস্কার কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়ে ওবায়দুল কাদের জানান, এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকি সময়ে কাজ শেষ করতে সবাই সক্রিয় আছেন।
 
ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক গাজীপুরের চান্দনায় মিলিত হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছে। এ মহাসড়ক দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাতটি জেলা, উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষ রাজধানীতে যাতায়াত করেন। প্রতিদিনই প্রায় ১৫/২০ হাজার যাত্রীবাহী বাস, শত শত ট্রাক, লরিসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে এ পথে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নাড়ীর টানে বাড়ির পথে যাত্রা করবে। টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানা খন্দ। এসব খানা খন্দ একদিকে মেরামত করা হয়, বৃষ্টির পরে আবার অন্যস্থানে খানা খন্দ তৈরী হয়। এসব খানা খন্দ ও সড়কের দুপাশে কার্পেটিংয়ের বাইরের অংশে পানি জমে থাকায় ঈদ যাত্রার আগেই তৈরী হচ্ছে যানজট। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে যানজট সৃষ্টি করে। আবার কোথাও সড়কের গর্তে ও পাশে পানি জমে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। পানি জমার কারণে কোন যানবাহনের চালক কার্পেটিং করা অংশের বাইরে গাড়ী নামাতে চান না। আবার দুই এক ঘন্টা বৃষ্টি হলে মহাসড়ক নদীর আকার ধারণ করে। তখন সড়ক হয়ে পড়ে সরু ও ঝুকিপূর্ণ। ঢাকা টাঙ্গাইল  মহাসড়কে ফোরলেনের কাজের পাশাপাশি কোনাবাড়ী ও চন্দ্রায়  দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলছে। এসব কারণে বৃষ্টির পর টাঙ্গাইল মহাসড়কে সড়কের কোনাবাড়ী, শফিপুর, চন্দ্রায় তৈরী হয় যানজটের। যানজট টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। কোথাও কোন গাড়ী নষ্ট হলে বা দূর্ঘটনায় পতিত হলে সড়কের যানজট ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকে যানবাহন। অনেক যানের ইঞ্জিনে সমস্যা হয়, কোনটার জ্বালানী শেষ হয়ে যায়। এসময় নারী ও শিশু যাত্রীদের দূর্ভোগ চরমে পৌছে।
 
ঈদের আগে আগে এ যানজট আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সকালে যানজটে আটকে থাকা গাজীপুর চৌরাস্তা-সিরাজগঞ্জ রুটের তালুকদার পরিবহনের চালক আবুল কাসেম।
 
তিনি বলেন, চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পার হতেই তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। যানজটের মধ্যেই কোনাবাড়ী বাজারে সড়কের মাঝখানে একটি ট্রাক বিকল হয়ে থাকা  ট্রাকের চালক জামাল হোসেন জানান, এক্সেল  বিয়ারিং ভেঙে যাওয়ায় গত তিন দিন ধরে তিনি  আটকে আছেন।
 

ইত্তেফাক/এএম।