আগৈলঝাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে ক্লাস করছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। ওই স্কুলগুলোতে পাঠদানের শ্রেণিকক্ষের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ক্লাস করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তাদের সন্তানদের নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলার ২৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটির ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গত ১০ বছরেও এই খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ করেনি সরকার। ২০০৭ সালে সিডরের পর সরকারি নির্দেশ পেয়ে উপজেলার ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫টি, নব জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয় ২৯টি, ১৫’শ বিদ্যালয় প্রকল্প দুটিসহ মোট ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম তালুকদার জানান, উপজেলার ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণসহ মোট ২৩টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সরকারিভাবে চিহ্নিত করে সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রাজ কুমার গাইন বলেন, আগে এলজিইডি বিভাগের মাধ্যমে স্কুল ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করা হতো। এখন সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প এবং রেজিস্ট্রি স্কুলগুলো জাতীয়করণের পর নতুন জাতীয়করণ করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এখন নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে এখনও এই প্রকল্পটি কাজ শুরু না করায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নির্মাণ বা সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্পের কাজ শুরু হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উল্লেখিত ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/নূহু