গাংনীতে গরু খামারিদের লোকসানের আশঙ্কা

গাংনী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু আসায় শংকা আর উত্কণ্ঠায় দিন কাটছে গরু খামারিদের। এরই মধ্যে বাজার দর পড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের মুখে পড়েছে উপজেলার খামারিরা। গেল দুই বছরে ভারত থেকে গরু না আসায় লাভের মুখ দেখছেন গাংনীর খামারিরা। কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার যুবকের। চলতি বছরে জেলার দুইশ’র বেশি খামার ও ঘরোয়াভাবে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার গরু। অন্য বছরে ঈদকে সামনে রেখে কেনা বেচা শুরু হলেও এবার দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র।

গাংনী উপজেলার মালসাদহ গ্রামের গরু ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, কোন ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই খড়, কাঁচা ঘাস, গমের ভূসি, খৈলসহ বিভিন্ন প্রকারের প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন উপজেলার খামারিরা। গত বছরের তুলনায় গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তারপরও আশায় বুক বেধেছিলেন খামারিরা। কিন্তু দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু আসায় চিন্তার ভাজ খামারিদের। বর্তমান বাজার দরে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

উপজেলার জুগিরগোফা গ্রামের খামারি রফিকুল ইসলাম এবার কোরবানির ঈদে আটটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। গরুগুলো ৬ লাখ টাকায় বেচার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সে স্বপ্ন ভেঙে গেছে। একই অবস্থা এ গ্রামের খামারি আশরাফের। এবার কোরবানির ঈদে ছয়টি গরু বিক্রি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে আসল টাকা উঠবে কিনা শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

বানিয়াপুকুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী ইকবাল জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে প্রচুর পরিমাণ গরু আসছে। সেখানে কম দামে গরু কিনতে পারছেন তারা। ফলে দেশের উত্পাদিত গরুর দাম কম।

গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি গরু আছে। ফলে কোরবানির জন্য দেশের বাইরের গরুর কোন প্রয়োজন নেই। এভাবে সীমান্ত দিয়ে গরু আসলে লোকসানের মুখে পড়বে দেশের খামারিরা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সম্ভাবনাময়ী খাত। সীমান্ত দিয়ে যাতে গরু না আসে সেজন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু