তামিম-সারোয়ার গ্রুপের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জে এখনো সক্রিয়!

 
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ‘অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭’ অভিযানে গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় বোমা হামলার মাস্টারমাইন্ড কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার একবছর পূর্ণ হলো গতকাল। তবে থেমে নেই জঙ্গিরা। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জে নাশকতার লক্ষ্যে এখনো বিভিন্ন ছদ্মবেশে সক্রিয় রয়েছে নব্য জেএমবির সেই তামিম-সারোয়ার গ্রুপের সদস্যরা। তবে এদের দমনে সচেষ্ট রয়েছে প্রশাসন। বিগত একবছরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব-১১’র সদস্যরা। উদ্ধার করে পিস্তল, গ্রেনেড, বিষ্ফোরক দ্রব্যসহ জিহাদি বই। এছাড়াও চলতি বছরের ২ জুন গত রূপগঞ্জের পূর্বাচল আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর সেক্টরে একটি খালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিষ্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করে ডিবি ও রূপগঞ্জ পুলিশ। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে ছিল ৬২টি চাইনিজ এলএমজি রাইফেল, ২টি রকেট লঞ্চার, ৪০টি ম্যাগজিন, ৪২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি ওয়াকিটকি, ৪টি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলি। এর কয়েকদিন পরে একই স্থানে ফের তল্লাশি চালিয়ে দুই দফায় আরো ১০ টি চাইনিজ রাইফেল, গোলাবারুদসহ প্রায় ৩শ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ৫জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও মূল হোতাকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
 
ফিরে দেখা ‘অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭’
 
ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি আকরাম সালাউদ্দিনের তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ আগস্ট মধ্যরাত থেকেই নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার বড় কবরস্থান সংলগ্ন আওয়ামী লীগ নেতার ভাই নুরুদ্দিন দেওয়ানের তিনতলা বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার সদস্যরা। রাতেই পাইকপাড়া জঙ্গি আস্তানায় বসবাসরত ভাড়াটিয়াসহ আশেপাশের লোকজনদের অন্যত্র সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিচ্ছিন্ন করা হয় গোটা এলাকার বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ। ২৭ আগস্ট সকাল থেকেই সেই বাড়িতে অবস্থানরত গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গিকে আত্মসমর্পণের জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু জঙ্গিরা আত্মসমর্পণের আহবানে সাড়া না দিয়ে সব ডকুমেন্ট আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। আল্লাহু আকবর বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপসহ গুলি ছুঁড়ে। এরপর সকাল ৯ টা ২৫ মিনিটে সোয়াত টিমের অংশগ্রহণে শুরু হয় ‘অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭’ অভিযান। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্নাইপার রাইফেলের গুলি বর্ষণে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ তৃতীয় তলার কক্ষে অবস্থানরত তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে ১০ টা ২৫ মিনিটে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
 
পাইকপাড়ায় নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে অপর দুইজন জঙ্গি হচ্ছেন একজন মানিক (৩৫)। আরেকজন ইকবাল (২৫)। এদের মধ্যে মানিক পাইকপাড়ার ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল। এদিকে, জঙ্গি আস্তানায় নিহতের ঘটনায় সদর মডেল থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। যা পরবর্তীতে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো অব বাংলাদেশ (পিবিআই) এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভাড়াটিয়ার তথ্য গোপনের অপরাধে গ্রেফতার করা হয় বাড়ির মালিক নুরুদ্দিন দেওয়ানকে। এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেই স্নাইপারের গুলির ক্ষত লেগে আছে জঙ্গিদের ব্যবহূত পাইকপাড়ার সেই ফ্ল্যাটটিতে। কিন্তু গতকাল ২৭  আগস্ট তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত সেই ফ্ল্যাটটিতে আসেনি কোন ভাড়াটিয়া। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পাইকপাড়া বড় মসজিদ সংলগ্ন হাজী নূর উদ্দিনের সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির তৃতীয় তলার দুইটি কক্ষ এখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। জঙ্গিদের ব্যবহূত সেই দুটি কক্ষের দরজায় দেখা যায় অসংখ্য গুলির চিহ্ন।
 
ইত্তেফাক/কেকে