ধুনটে সালিশি বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় ভিক্ষুক নিহত

 
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সালিশি বৈঠকে ভাতিজার বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হামলায় আব্দুর রশিদ (৬০) নামে এক ভিক্ষুক নিহত হয়েছেন। আব্দুর রশিদ উপজেলার বড়বিলা পূর্বপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে। রবিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 
 
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন আব্দুর রশিদ ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে চার সদস্যর পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পার্শ্ববতী কাজিপুর উপজেলার পরানপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের বাড়ি থেকে এক সপ্তাহ আগে অটোভ্যানের ৪টি ব্যাটারি চুরি করে দুর্বৃত্তরা। 
 
রবিবার রাত ৮টার দিকে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আব্দুর রশিদের ভাতিজা বড়বিলা পূর্বপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামকে আটক করে প্রতিবেশী চান্দুর বাড়িতে সালিশি বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন ব্যাটারি চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য নুরুল ইসলামকে মারধর করতে থাকে। 
 
এ সময় ভাতিজাকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে যান আব্দুর রশিদ। ভাতিজা চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ক্ষুদ্ধ হন। এক পর্যায়ে ওই সালিশি বৈঠকের লোকজনের মারধরে নিহত হন আব্দুর রশিদ। পরে তারা রাত ১০ টার দিকে আব্দুর রশিদের লাশ বাড়িরে পাশে রাস্তার উপর ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর থেকে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামসহ সালিশি বৈঠকের লোকজন পলাতক রয়েছেন। 
 
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে আব্দুল মেজের বলেন, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজনের মারধরে আমার বাবা মারা গেছেন। পরে তারা আমার বাবার লাশ বাড়ির পাশে রাস্তায় রেখে গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 
 
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, অটোভ্যানের ব্যাটারি চুরির ঘটনা নিয়ে বড়বিলা গ্রামে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে আব্দুর রশিদ কিভাবে মারা গেছেন তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সংবাদ পেয়ে রবিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে আব্দুর রশিদের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে