ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর গ্রামে বোমা বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গির পরিচয় মিলেছে এবং সেখান থেকে চারটি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জঙ্গির নাম মো. আলম প্রামাণিক (৩৫)। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি দল জেএমবির সদস্য। তার গ্রামের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামে।
এদিকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাশর গ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে চারটি বোমা উদ্ধার করেছে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে বোমা কিংবা বোমা ডিভাইস থাকতে পারে ধারণা করে পুলিশ অভিযান না চালিয়ে বাড়িটি ঘিরে রাখে এবং ঢাকা থেকে বোমা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ডাকা হয়।
প্রসঙ্গত, ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর গ্রামে আজিম উদ্দিন বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিন, নিহতের স্ত্রী-সন্তানসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, মো. আলম প্রামাণিক এর আগেও বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ছিলেন। সবশেষ রোজার ঈদের পরে কুষ্টিয়ার একটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ছিলেন তিনি। পাঁচদিন আগে পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে বাসা ভাড়া নেন। ঘটনাস্থলে অত্যাধুনিক বোমাসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে। সেখানে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আজিম উদ্দিনের কাশর চৌরাস্তা এলাকায় বাড়িটিতে ১২টি ঘর রয়েছে। ঘরগুলোতে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ভাড়া থাকেন। পাঁচ দিন আগে স্ত্রী পারভিন ও দুই সন্তান ইব্রাহীম (৮) ও ইহছাককে (৩) নিয়ে একটি ঘর ভাড়া নেন নিহত আলম। ভাড়া দেয়ার সময় বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিন ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য নেননি। ববিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই বাড়িতে বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন বাড়িতে গিয়ে দেখেন, বোমার আঘাতে আলমের দুই হাত উড়ে গেছে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। বিস্ফোরণে আলম প্রামাণিকের আট বছরের ছেলে ইব্রাহীম আহত হয়। পরে আলমের স্ত্রী পারভীন আহত ইব্রাহীমসহ দুই শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাত ৯টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আহত ইব্রাহীমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি