চামড়ার বাজারে ধস, বঞ্চিত হলো দুস্থরা

 
এবার ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে রীতিমত ধস নেমেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়ার ফ্যাক্টরি স্থানান্তর হওয়া, ট্যানারি মালিকরা পোস্তার ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা না দেওয়ায় তারা পাইকারি ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সরকার চলতি বাজার দরের চেয়ে কম দর নির্ধারণ করায় চামড়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
 
চামড়ার বাজারে ধস নামায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে দুঃস্থ-অসহায়দের। কারণ, ন্যায্যমূল্যে চামড়া বিক্রি হলে গরীব-অসহায়রা বেশী অর্থ পেতেন। এদিকে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে দাম কম হওয়ায় অনেক চামড়া পাচার হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
 
চামড়া ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান,  ১ লক্ষ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকায়। এমনকি ৪’শ থেকে ৫’শ টাকায় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। ঢাকায় ঈদের দিন শনিবার মাঝারি গরুর চামড়া ৭ থেকে ৮শ’ ও বড় গরুর চামড়া সাড়ে ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
 
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ ঈদের পর গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা চামড়া কিনতে ঋণ দেয়নি। তাই নগদ টাকার সংকট থাকায় চামড়া কিনতে অগ্রিম অর্থ দিতে পারিনি। এ কারণে পাইকারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সুবিধামতো বিভিন্ন দরে চামড়া কিনেছেন। তবে এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান বলেছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা পাওনা হলেও ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরসহ নানা অজুহাতে মালিকরা আমাদের টাকা পরিশোধ করছেন না। এ কারণে তারা চামড়া কেনার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের টাকা দিতে পারেনি।
 
কোরবানির চামড়া পাচার হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু জবাই হয়েছে। কিন্তু সে হিসেবে চামড়া প্রান্তিক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের কাছে নেই। সীমান্তবর্তী জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা ভারতে চামড়া বিক্রি ও পাচার করছেন।
 
উত্তরবঙ্গে চামড়ার একটি বড় বাজার বগুড়া। বগুড়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাহী সদস্য রোকন, খোকন  জানান, ঢাকায় ট্যানারি স্থানান্তর, জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের টাকা ট্যানারি মালিকরা আটকে রাখা এবং লবণের বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোই এবার চামড়ার বাজার ধসের কারণ।
 
খুলনা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ঢালী বলেন, আগে ঈদে শেখপাড়া চামড়াপট্টিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার চামড়া সংগ্রহ হলেও এবার হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার। বাকি চামড়া কিছু মাদ্রাসায় গেছে, কিছু পাশের জেলা দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, এবার সরকারিভাবে কোরবানির গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২২ টাকা ও বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
ট্যানারি ব্যবসায়ীদের হিসেবে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এসব চামড়ার অর্ধেকেরও বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। কিন্তু এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া আসছে না বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।
 
ইত্তেফাক/এমআর