যে কোনো বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাসটেইনবল বিজনেস সলিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদুজ্জামান রবিন। তিনি মনে করেন, দক্ষ জনবলের মাধ্যমেই কেবল কোনো খাত চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। শাহেদুজ্জামান রবিন বাংলাদেশে গত সোয়া এক যুগ ধরে মানবসম্পদে দক্ষতা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে চলমান অনেক সঙ্কট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এসব সঙ্কটের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়তে প্রয়োজন দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ। বনানীসহ দেশের কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।”
একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য সেক্টরকে এগিয়ে নিতে হলেও দক্ষ জনবলের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে অভিমত তার। বিশ্ব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পেশাগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করবে। সব সেক্টরেই তাই দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলেও জানান তিনি।
আরো পড়ুন: স্বার্থান্বেষীরা হতাশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের খারাপ কাজে ব্যবহার করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
পোশাক শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে ধরে এ পেশাগত দক্ষতা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের পোশাক খাতের দিকে তাকালেই দেখতে পাই গত অর্থ বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে। যা দেশের পুরো রপ্তানির ৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ১২.৩৬ ভাগ। কিন্তু এই সেক্টরে কর্মরত বেশিরভাগ শ্রমিকেরই পেশাগত দক্ষতা সর্বোচ্চ ৩৫ ভাগ। অথচ চায়না ৬৫ ভাগ দক্ষতা সম্পন্ন জনবল নিয়ে পোশাক শিল্প রপ্তানিতে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে। আমাদের দেশেও যদি দক্ষতার হার আরও বাড়ানো যায়, তাহলে শ্রমিকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন যেমন ঘটবে, তেমনি রপ্তানিতেও আমরা অনেকদূর এগিয়ে যাবো।
দক্ষ জনবল তৈরির প্রতি জোর দিয়ে শাহেদুজ্জামান রবিন বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে শীর্ষ পর্যায়ে কর্মরত বেশিরভাগই বিদেশী। বিশেষ করে বড় বড় কারখানার সিইও, সিওও, সিএফও এবং জিএম পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হচ্ছে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের দক্ষতা আমরা আমদানি করছি। দেশের ভেতর থেকে এ পর্যায়ের দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পারলে বিশাল অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা সম্ভব। পাশাপাশি এই দক্ষ জনশক্তি বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে বাড়ানো যেতে পারে যেতে পারে দেশের রেমিটেন্স।
সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে শাহেদুজ্জামান রবিনের মন্তব্য, দেরিতে হলেও সরকারের এমন উদ্যোগ আশার সঞ্চার করেছে। তবে যাদের জন্য এ উদ্যোগ তাদেরও উচিত এ প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা। সম্মিলিত কর্মউদ্যোগেই বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত এসজিডি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ