গৌরীপুরে রেলের জায়গায় দখলের অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাটি ভরাট করে রেলওয়ের সরকারি জমি দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) সহকারী এসেসর আসাদুজ্জামান রমেন্সের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, গৌরীপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ সহকারি প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে ইতিমধ্যে মাটি ফেলে প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার জমি দখল করা করেছেন। প্রকাশ্যে মাটি ফেলে এভাবে রেলওয়ের জায়গা দখল করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দখলদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এলাকাবাসী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ সহকারি প্রকৌশলীর কার্যালয়ের একশ গজ পূর্ব দিকে বাড়িওয়ালা পাড়ায় মসিক কর্মচারী আসাদুজ্জামানের কয়েক শতক জায়গা রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে নিজের ওই জায়গা ঘেঁষা রেলওয়ের একটি ডোবা মাটি ফেলে ভরাট কাজ শুরু করেন। দখলকৃত ওই জায়গায় নিজের চলাচলের জন্য রেলওয়ের জমিতে মাটি ভরাট করে দুটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দার ব্যক্তিগত জমির বাঁশঝাড় কেটেছেন মসিকের ওই কর্মচারী।
 
সোমাবার সকালে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান তার জমি ঘেঁষে রেলওয়ের ডোবার দুপাশে মাটি ফেলে অনেকাংশ দখল করেছেন। অবৈধ ভাবে মাটি ভরাট করে রেলওয়ের জায়গায় উঁচু করে রাস্তা নির্মাণের কারণে অনেকের বাড়ির প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, রেলওয়ের জমি দখলের খবর পেয়ে রেলওয়ের পুলিশ মাটি ভরাট করতে বাধা দিলে কাজ সাময়িক বন্ধ থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন আসাদুজ্জামান।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান রমেন্স বলেন, আমি জায়গা দখল করিনি। জনগণের স্বার্থে মাটি ফেলে রাস্তা করে দিয়েছি। পুলিশ বাধা দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ আমাকে বাধা দেয়নি। আর এই রকম একটু-আধটু জায়গা কমবেশি সবাই দখল করে।

প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, রমেন্স নামে এক লোক মাটি ভরাট করে রেলওয়ের জায়গা দখল করছে বিষয়টি জানতে পেরে আমি রেলওয়ে পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেই। পরবর্তীতে আবার ভরাট কাজ শুরু হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তার সঙ্গে আমার কোনো আঁতাত হয়নি।

আরও পড়ুন: আব্দুল মজিদের সৌর চুলা

এদিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সুকুমার বিশ্বাস বলেন, রেলওয়ের জায়গা দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ যদি জোরপূর্বক জায়গা দখল করে তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

অপরদিকে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের এস্টেট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দখলদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রেলওয়ের প্রকৌশলী ম্যানেজ হয়েছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।

ইত্তেফাক/অনি