জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, তদন্ত কমিটি গঠন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন শনিবার রাতে জালালাবাদ থানায় অধ্যাপক জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়েরের পর রবিবার তা সন্ত্রাস দমন আইনের মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। রাতে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, র‌্যাব হেফাজত থেকে এখন আসামি ফয়জুল তাদের হেফাজতে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফয়জুল বিকাল ৫টার দিকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, শনিবার রাতেই আমরা জালালাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। সেখানে ফয়জুল ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। অধ্যাপক জাফর ইকবাল বরাবরই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর। তাই বিভিন্ন সময়ে হুমকি পাওয়ায় ২০১৬ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করে সরকার। তার মধেই শনিবার দিনদুপুরে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আটক ফয়জুল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে মাদ্রাসা ছাত্র হিসেবে দাবি করেছে। জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু বলে তাকে হত্যার জন্য সে হামলা চালায়।
 
র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ফয়জুল জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী। তবে তদন্ত ছাড়া এর বেশি এখনই বলা যাচ্ছে না। ফয়জুলকে শনিবার রাতে প্রথমে সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে র‌্যাব। রাত দেড়টার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জালালাবাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। চিকিৎসা শেষে শারিরীক অবস্থার উন্নতি হলে রবিবার বিকালে হামলাকারী যুবককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
 
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন: হামলার ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, তদন্ত কমটির প্রধান হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল গণি। অন্য সদস্যরা হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শহিদুর রহমান। উপাচার্য বলেন, ড. জাফর ইকবালের হামলা নিন্দনীয় ও অনাকাক্সিক্ষত। আমরা ক্যাম্পাসে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি। শিগগিরই ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি