চলে গেলেন বীরবিক্রম আব্দুর রহমান

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বীর বিক্রম আব্দুর রহমান (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০বছর। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশে ১৭৫ জনকে বীর বিক্রম উপাধি প্রদান করা হয়। সেই বীরদের একজন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বড়ধলিয়া গ্রামের সার্জেন্ট (অব.) বীর বিক্রম আব্দুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে।
 
যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে আ. রহমান শপথ নেন প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করার। হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার অ্যাড. মোহাম্মদ আলী পাঠান জানান আ. রহমান প্রথমে ভারতের তুলা বাগানে মুক্তিযুদ্ধদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন পরে ৩ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন এলাকায় ২০টি সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন। সেসময় তেলিয়াপাড়া বাঁশবাড়ী এলাকায় পাকিস্তানি সৈন্যরা তাকে আটক করলে তিনি ২ জন পাকিস্তানি সৈন্যকে হত্যা করে তাদের কবল থেকে মুক্ত হয়েছিলেন।
 
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আ. রহমান খুবই অর্থ কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। এক সময় সাতছড়ি চা বাগানে সামান্য বেতনে চৌকিদারের চাকরি করেছেন। ২৬জুন ২০০৪ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বীর বিক্রম রহমান এখন বাগান চৌকিদার শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী মাধবপুরের বড়ধলিয়া গ্রামে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরভবন নামে তাকে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এ বাড়িতেই তিনি গতকাল সোমবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগছিলেন।  ১ ছেলে ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
 
আব্দুর রহমানের মৃত্যুতে সাবেক সেনা প্রধান ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ (বীর উত্তম), সাব সেক্টর কমান্ডার হেলাল মূর্শেদ খান (বীর বিক্রম ) হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাড. মো. মাহবুব আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার অ্যাড. মোহাম্মদ আলী পাঠান শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় আজ সোমবার  বাদ আছর তেমুনিয়া মাদ্রাসা মাঠে রাষ্ট্রীয় সালামি ও নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এসএস