নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন চারটি ভবনের নির্মাণ কাজ ১০ বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদার এর ৫০ শতাংশ কাজও শেষ করেননি। বাকি কাজ কবে হবে কেউ জানে না। এদিকে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় হাসপাতালের ৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের কাছে এলাকাবাসী দীর্ঘদিনেও নিকলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ না হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, আমি তিনবার ডিওলেটার দিয়েছি এবং ঢাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কথা বলে ওই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে যত দ্রুত সম্ভব নতুন টেন্ডার দেওয়ার চেষ্টা করছি।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ কিশোরগঞ্জ নির্মাণ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ইউনিটের (এইচইডি) সহকারী-প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে গত কয়েক বছর ধরে চিঠি চালাচালি করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এতে কাজ না হওয়ায় ওই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে কিছুদিনের মধ্যে নতুন করে টেন্ডার আহবান করে বাকি কাজ শেষ করা যায় কী না চেষ্টা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে পুরনো ভবন সংস্কারসহ নতুন চারটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার এ কাজ ২০০৮ সালের ১৬ জুন শুরু হয়। ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনগুলো কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।
নিকলী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, যে গতিতে কাজ হয়েছে তাতে ওই ঠিকাদারের পক্ষে ২০২০ সালের মধ্যেও ভবনটি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) মো. আস আদ দীন মাহমুদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরনো ভবনের সংস্কার নতুন ভবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই আমরা পুরনোটা আলাদাভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারছি না। হাসপাতালের দরজা-জানালা সব ভেঙে যাচ্ছে। পয়ঃপ্রণালী ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে রোগীদের শরীরে পানি পড়ে। অবস্থা এমন যে, রোগীরা এ হাসপাতালে ভর্তি হতে চায় না। এটি আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. হাবীবুর রহমান বলেন, একমাত্র ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ হচ্ছে না। আমি প্রতি মাসে জেলা উন্নয়ন সভায় এ সমস্যা নিয়ে কথা বলি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এদিকে হাসপাতালে গিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোনো লোক বা প্রতিনিধিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কাজল বিল্ডার্সের কোনো দায়িত্বশীল লোকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইত্তেফাক/নূহু