আলমডাঙ্গায় বাল্য বিয়ে বন্ধের 'প্রধান প্রতিবন্ধক' আটক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা অঞ্চলের বাল্য বিয়ে কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। পঞ্চম শ্রেণী থেকে শুরু করে দশম শ্রেণীর স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীদের হরহামেশা বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। সংবাদ পেয়ে প্রশাসন বিয়ে ভেঙে দিয়ে এলেও গোপনে অন্য গ্রামে গিয়ে বাল্য বর-কনের বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর এই সকল গোপন বিয়ের উপজেলার একমাত্র আশ্রয়স্থল কাজি জহুরুল ইসলাম। তার কাছে গেলে টাকার বিনিময়ে কাগজপত্র ছাড়াই তিনি বিয়ে পড়িয়ে দেন। তিনি কেবল কাজি-ই নন, একাধারে জামজামী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকও।
 
এরকম বহু অভিযোগের ফিরিস্তি হাতে নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে একটি গোপন বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল থেকে পুলিশ কাজি জহুরুলকে আটক করে থানায় আনে। ডাউকি ইউনিয়নের বক্সিপুর গ্রামের আব্দুল গনি তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সাথে কুষ্টিয়ার ইবির মাগুরা গ্রামের আছের আলীর ছেলে আলী হোসেনের বিয়ের দিন ধার্য করেন গতকাল শুক্রবার। ছোট্ট মেয়ের বিয়ের ঘটনা জানাজানি হলে কনের বাবা মেয়েকে গোপনে নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী মাজু গ্রামে সমেজ আলীর ছেলে নবিছদ্দিনের বাড়িতে। এখানে যথারীতি হাজির হন অভয়নগর গ্রামের বহুল আলোচিত কাজি জহুরুল ইসলাম মাস্টার। তড়িঘড়ি করে বিয়ে পড়িয়ে বাড়ির বাইরে বেরুতেই পুলিশের হাতে আটক হন কাজি জহুরুল।
 
থানার সেকেন্ড অফিসার জিয়াউর রহমান ইত্তেফাককে জানান, কয়েকটি অভিযোগ পেয়ে তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু কোথায় বিয়ে হচ্ছে তা ঠিক করতে পুলিশের কয়েকটি গ্রাম ঘুরতে হয়েছে। শেষে মাজু গ্রামে কাজি জহুরুলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
 
ভুক্তভোগী ছত্রপাড়া গ্রামের আমির হোসেন ইত্তেফাককে জানান, মানুষের প্রলোভনে পড়ে তার পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে কাজি জহুরুলের হাত ধরে বিয়ে দেন। এর বছর দুয়েক পর মেয়ের স্বামী ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরী নিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে মেয়েকে সে তালাক দিয়ে দেয়। কিন্তু দু'বছরেও কাজি জহুরুল বিয়ের কাগজ দেয় না। শুধু ঘোরায়। ফলে তারা আর আইনের আশ্রয় নিতে পারেনি।
 
একই ধরণের অভিযোগ দেন ছত্রপাড়া গ্রামের আবু বকর। তিনি তার অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেন। বিয়ে পড়ান কাজি জহুরুল মাস্টার। আবু বকর মেয়ের বিয়ের কাবিননামা নিতে গিয়ে জানতে পারেন এ নামে কোন বিয়েই হয়নি। কাজি জহুরুল বিয়ে পড়িয়েছেন তার কোন প্রমাণই নেই। আবু বকরের মেয়েটাও তালাক হয়ে এখন তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে। অভয়নগর গ্রামের লুৎফর রহমানের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে কাজি জহুরুল বিয়ে পড়িয়ে এলাকায় সমালোচনার মুখে পড়েন।
 
একের পর এক অভিযোগ পেয়ে গত ৬ মাস আগে কাজি জুহুরুল ভ্রাম্যমাণ আদালতের কবলে পড়েন। জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে সেবারের মতো কাজি ছাড়া পান। কিন্তু তার এই অবৈধ বিয়ে পড়ানো বন্ধ হয়নি। একের পর এক অভিযোগে গতকাল পুলিশ তাকে আবারো আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
 
ইত্তেফাক/এসএস