নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুরের মীরেরবাগ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮) নামে এক ডাকাত সর্দার নিহত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ৫ ডাকাতকে আটক করে। উদ্ধার করা হয় এক রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল, চাপাতি, ছোড়া, তালা কাটার যন্ত্রপাতি। এসময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মোরশেদ আলম জানান, উপজেলার জামপুর মীরেরবাগ এলাকায় গতকাল সোমবার ভোর সোয়া ৪ টায় ৮/১০ জনের একদল ডাকাত রাস্তায় ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে ডাকাতদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ডাকাত সদস্যরা গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। পুলিশের গুলিতে আন্ত:জেলা ডাকাত সর্দার জাহাঙ্গীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময়ে আহত হন ইউসুফ ও লুৎফর রহমান নামের ২ পুলিশ কনস্টেবল। আহত ২ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সময় পুলিশ ডাকাত সর্দার জাহাঙ্গীরের সহযোগী স্বপন, মাসুম, নাজমুল হোসেন, আলমগীর ও রুবেল নামের ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, ১টি ছোড়া, ২টি চাপাতি ও তালা কাটার যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেছে। নিহত ডাকাত জাহাঙ্গীর হোসেনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জাহাঙ্গীর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার লঘুরচর এলাকার আশেক আলী বেপারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, হত্যাসহ এক ডজনেরও বেশি মামলা আছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাত স্বপন উপজেলার তাহেরপুর পাঁচানী গ্রামের আ. রশিদের ছেলে, মাসুম একই এলাকার আব্দুল বেপারীর ছেলে, নাজমুল হোসেন চাদপুরের মতলব উপজেলার নারগাঁও গ্রামের মানিক হোসেনের ছেলে, আলমগীর মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ার চরবলাকী গ্রামের আ. বাতেনের ছেলে ও রুবেল নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার মাধবদী গ্রামে মৃত খলিল মিয়ার ছেলে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতির অভিযোগে একাধিক মামলা আছে।
ইত্তেফাক/কেআই