চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৭ ও ৯ বছরের দুই শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কুয়াইশ গোল আমগাছতল এলাকা থেকে সোমবার দিবাগত রাত ১১টায় তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় ৯ বছরের কন্যার বাবা বাদী হয়ে হোসেনের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় আজ মঙ্গলবার একটি মামলা করেন।
পুলিশ দুপুরে আসামি হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করেছে। অপরদিকে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য ওই দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হোসেন কক্সবাজার উপজেলার টেকনাফ থানাধীন হারাখালি এলাকার মৃত রবি সুলতানের ছেলে ও নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার বেক্স টেক্সটাইল নামক একটি প্যাকেট ফ্যাক্টরির জুনিয়র প্যাকার।
কন্যা শিশুদ্বয়ের বাবা-মায়েরা জানান, তারা ভিন্ন জেলার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে এক যুগ সময় ধরে হাটহাজারী উপজেলায় বসবাস করে আসছেন। হোসেনও পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ৭ বছরের কন্যার বাবা সবজি বিক্রি করেন ও স্ত্রী নগরীর একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। আবার ৯ বছরের বাবা একটি হোটেলে ওয়েটার হিসেবে চাকরি করেন ও তার স্ত্রী নগরীর একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। উভয় পরিবারের ভাড়া বাসা থাকেন।
দিনের বেলা কন্যাদ্বয়ের বাবা-মায়েরা না থাকার সুযোগে মো. হোসেন তাদের গত একমাস ধরে বিভিন্ন সময় ফুসলিয়ে তাদের একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ তিনি ৯ বছরের কন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। একটি মাদ্রাসায় হেফজখানায় অবস্থান করে পড়ুয়া মেয়ের ভাই অসুস্থতাজনিত কারণে এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে অবস্থান করছে। গত সোমবার দিনে বোন তাকে বিষয়টি জানায়। পরে সন্ধ্যায় মা ঘরে আসলে ছেলেটি মাকে সবকিছু বলে দেয়। এরপর ধর্ষিত হওয়া অপর পরিবারের মেয়ের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। একপর্যায়ে তারা বিষয়টি শিকারপুর ইউনিয়েনর প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার লোকমান হাকিমকে জানানো হলে তিনিও ঘটনাস্থলে যান। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে এসআই নাজমুল হাসান অভিযুক্ত হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত হোসেন। মামলা রুজু করা হয়েছে। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। অপরদিকে শিশুদ্বয়কে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে