রাজবাড়ীতে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মাহাবুব রাব্বানীর আপন ভাগ্নে রবিউল ইসলামকে (২৫) পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ। সোমবার রাতে গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন সোহাগ খান (২১) নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের দিয়েছে। তিনি উজানচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় বাহাদুরপুর গ্রামের মহিউদ্দিন খান ওরফে মইসনা খানের ছেলে।
আহত যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার রাত দশটার দিকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে উভয়ের নিজ এলাকা বাহাদুরপুর গ্রামের বটতলা মসজিদের সামনে স্থানীয় আলিরাজ নামের এক যুবকের সঙ্গে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহাগ খানের মধ্যে বাকবিতন্ডা চলছিল। তিনি বাড়ি ফেরার পথে বাহাদুরপুর বটতলা এলাকায় তাদের বাকবিতন্ডা দেখে এগিয়ে গিয়ে উভয়কে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ সোহাগের কাছ থেকে খবর পেয়ে পর সেখানে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম, নয়ন, ছাত্রলীগ নেতা আকাশ, সজলসহ ৮-৯জন মোটরসাইলে এসে তাকে (রবিউল) জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে গোয়ালন্দ শহরের মাল্লাপট্রি ব্রিজের কাছে নিয়ে যান।
সেখানে নিয়েই একজন তার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ধরে মাটিতে ফেলে অন্যরা এলোপাথারি মারপিট শুরু করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাকে ফেলে সবাই দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার প্যান্টের পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও শার্টের পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা খোয়া যায়। এসময় এক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছুড়ে তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় সোহাগকে আটক করে।
সোহাগ নিজেকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দাবী করে সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় এক বছর ধরে রবিউলের সঙ্গে আমার নদীতে ইঞ্জিন চালিত মাটি খননের ড্রেজার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সোমবার রবিউলের বন্ধু আলিরাজ আমায় মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে রবিউলসহ তারা আমাকে মারপিট করেন। এসময় আশপাশের লোকজন এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর রবিউলকে কারা তুলে নিয়ে মারপিট করে সেটা আমার জানা নেই। পরে আমি বাজারে আসার পথে মাল্লাপট্রি ব্রিজের কাছে পৌঁছলে রবিউলের লোকজন আমাকে ধরার চেষ্টা করলে আমি নিজেই পুলিশের গাড়িতে উঠে প্রাণে রক্ষা পাই।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সহিদুল ইসলাম জানান, নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বড় ধরনের কোনো সংঘাত ঘটেনি। পরে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রবিউলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়া সোহাগকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।
ইত্তেফাক/কেকে