চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার তিয়রবিলা গ্রামের ধর্ষণের ঘটনায় গর্ভবতী ছাত্রীর ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ধর্ষক কাশেমকেও গ্রেফতার করেছে। আজ মঙ্গলবার কাইতপাড়া গ্রামের স্থানীয় আনিসের বাড়ির সামনে পুতে রাখা মৃত শিশুটি উদ্ধার করা হয়।
আনিসের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন হরিনাকুণ্ডু হাসপাতালের স্টাফ নার্স। পুলিশ লাশ উদ্ধার করার পর রাতে কাশেমকে গ্রেফতার করে। গতকাল ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের ডিএনএ টেস্টও করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে গত ১১ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সেটি প্রশাসনের নজরে আসে। আজ দুপুরে এএসপি (সার্কেল) কলিমুল্লাহ, থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই একরামুল হক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন। তারা হরিনাকুণ্ডু হাসপাতাল ও ভিকটিমের বাড়িও পরিদর্শন করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে জানান, অভিযুক্ত ধর্ষক কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন অপর আসামি তার বড় ভাই মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই একরামুল হক ইত্তেফাককে জানান, আমরা চারদিন ধরে মাঠে তদন্ত করেছি। গোয়েন্দা পুলিশও আমাদের সাথে কাজ করেছে। অবশেষে হরিনাকুণ্ডু হাসপাতালের স্টাফ নার্স মর্জিনা খাতুনের কাইতপাড়ার বাড়ির সামনে থেকে পুতে রাখা শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, লাশ উদ্ধারের পর আজ ভোরে কায়েতপাড়া এলাকা থেকে কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি তদন্তের স্বার্থে নার্স সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।
অভিযোগ রয়েছে তিয়রবিলা গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে কাশেম প্রায় ৯ মাস ধরে এক স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। কিন্তু তার শারীরিক পরিবর্তনে সব জানাজানি হয়ে যায়। এরপর কাশেম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত শনিবার সকালে প্রচণ্ড ব্যথা উঠলে ওই স্কুলছাত্রীকে নিয়ে তার মা হরিনাকুণ্ডু সদর হাসপাতালে যান। সেখানে কাশেমের বড় ভাই মনিরুজ্জামান উপস্থিত থাকেন। হাসপাতালে ওই ছাত্রী একটি জীবিত কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
ওই ছাত্রীর মা ইত্তেফাককে জানান, তার কোল থেকে কন্যা সন্তানটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় কাশেমের বড় ভাই মনিরুজ্জামান। হাসপাতালের তিনজন নার্স এ কাজে মনিরুজ্জামানকে সহযোগিতা করেন। এরপর তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।
এদিকে, শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার ও কাশেমকে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। লাশ উদ্ধারে তদন্তে নতুন মাত্রাও যোগ হয়েছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার অনেকেই। এখন বাকি আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা দেখতে চায় এলাকবাসী।
ইত্তেফাক/এসএস