শত বাধা পেরিয়েও ভর্তিযুদ্ধে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন রাসেল

মো. রাসেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত 'সি' ইউনিটের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ছেলেদের মধ্যে মেধাতালিকায় ৮৯.৯৫ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন। বিষয়টি অনেকের কাছেই সামান্য বা গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। কিন্তু তার এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়েছে দারিদ্র্যের বিপরীতে সংগ্রাম করে। পেরোতে হয়েছে শত বাধাবিপত্তি।

২০০১ সালের ৫ই মে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রাসেল । রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে ২০১৯ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। তার বাবা শাহজাহান ঘরামী একজন কৃষক এবং মা রেবা বেগম গৃহিণী। চার সন্তানের মধ্যে রাসেল তৃতীয়। পরিবারের শত অভাব অনটন ও প্রতিকূলতার মাঝেও তার বাবা লেখাপড়ার কোন ব্যাঘাত ঘটতে দেননি।

তবে এই পর্যায়ে আসতে রাসেলকে শত কষ্ট নিরবে সহ্য করতে হয়েছে। তিনি বলেন, সত্যি বলতে পুরো ইন্টারমিডিয়েট লাইফটা আমার খুব কষ্টে কেটেছে। বাড়ি থেকে কিছু টাকা নিতাম, একটা টিউশনি করতাম, যা পেতাম তাই দিয়েই চলতাম। মাঝেমধ্যে ঠিক মতো খেতে পর্যন্ত পেতাম না।

তবুও দিন শেষে সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া। তিনি বলেন, আমার এই সফলতার পিছনে প্রথমত আল্লাহর রহমত, এর পর মা বাবার দোয়া এবং শিক্ষকদের গাইডলাইন সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। আর আমারও প্রচেষ্টা ছিল। সবমিলিয়ে একটা ভালো আউটপুট পেয়েছি। আমি ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্সে ভর্তি হয়েছি। বিজয় একাত্তর হলে উঠেছি। এখানেই থাকার সম্ভাবনা আছে। আমি ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৮ তম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ তম হয়েছিলাম।
 
রাসেল বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব জায়গায় চান্স পেয়েছি। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কবি নজরুল সরকারি কলেজ এর মারজান ম্যামের। ম্যাম আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমাকে মানসিক ও আর্থিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন। তাঁর অবদান চিরদিন মনে থাকবে। এছাড়া কলেজ ও কোচিংয়ের সকল শিক্ষক ও বড় ভাইদের অবদান অস্বীকার করার নয়। আমার লক্ষ্য প্রথমত আমি ভালো মানুষ হতে চাই। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কাজ করার ইচ্ছা আছে। সকলের কাছে দোয়া চাই সফলতার ধারাবাহিকতা যেন ভবিষ্যতেও অব্যহত থাকে, সামনে যেন আরো ভালো করতে পারি।

রাসেলের সফলতা সম্পর্কে কবি নজরুল সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মারজাহান আক্তার বলেন, ও নিঃসন্দেহে ভাল এবং ভদ্র একজন স্টুডেন্ট ছিল। পড়াশোনার ব্যাপারে ওর যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। ওকে আমি পড়াশোনার বিষয়ে আরও বেশি করে উৎসাহ দিতাম আর আদর করতাম। বাকিটা ওর নিজের প্রচেষ্টার ফল। তবে ও যথেষ্ট পরিশ্রম করে ওই পর্যায়ে গিয়েছে। ওর জন্য সবসময় শুভকামনা। দোয়া করি ও যেন ওর স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

রাসেলের এই সাফল্যে বেজায় খুশি বাবা শাহজাহান ঘরামি। তিনি বলেন, বাবারে আমি ওতো বেশি লেখাপড়া করি নাই। তবে পড়ালেখার গুরুত্বটা বুঝি। আমি আমার ছেলে মেয়েদের অনেক বড় অফিসার বানাতে চেয়েছি। আমার ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী। পরিবারের অভাব অনটনের মধ্যে ছেলে মেয়ের পড়াশুনার খরচ চালাতে যদিও কিছুটা কষ্ট হয়েছে তবে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু চেষ্টা করেছি।  আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার ছেলে অনেক ভালো করেছে এবং ভবিষ্যতেও ভালো করুক। আমার ছেলের এই ফলাফলে আমরা সবাই খুশি।