আলমডাঙ্গায় পল্লী বিদ্যুতের ভৌতিক বিলে দিশেহারা গ্রাহক

আলমডাঙ্গার পারদূর্গাপুর গ্রামের শতাধিক পল্লী বিদ্যূতের গ্রাহক দ্বিগুণ-তিনগুণের অধিক ভৌতিক বিল পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত মাসের ৭শ টাকার বিল থেকে চলতি মাসে লাফিয়ে বিল উঠেছে ১৭শ টাকা হারে। অবিশ্বাস্য এই বিলে তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। গ্রাহকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন আলমডাঙ্গা পল্লী বিদ্যূৎ অফিসের কর্মকর্তারা।
 
আলমডাঙ্গা পল্লী বিদ্যূৎ অফিসের ডিজিএম রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, রোজার মাস ও বিশ্বকাপ ফুটবলের কারনে বিল বেশি হতে পারে। কিন্ত তিনিও অতিরিক্ত এই বিল মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে ভুল হলে সংশোধন করে দেওয়া হবে।
 
অফিসের এজিএম মনির হোসেন জানান, তিনি পারদূর্গাপুরের প্রায় একশ গ্রাহকের অতিরিক্ত বিলের খবর জানেন না। তিনি জানেন বাড়াদি গ্রামের গ্রাহকের অতিরিক্ত বিলের খবর।
 
বিলিং সুপারভাইজার আনোয়ারা বেগম জানান, রিডিং রিডারের কারনে শতাধিক গ্রাহকের যদি অতিরিক্ত বিল এসে থাকে তাহলে আমরা সংশোধন করে দেব।
 
গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, পারদূর্গাপুরের ইন্দারাপাড়ার প্রায় একশ পল্লী বিদ্যূতের গ্রাহক চলতি মাসে কারো দ্বিগুণ, কারো তিনগুণের অধিক বিল এসেছে। বিল হাতে পেয়ে গ্রাহকরা হতবাক। একে অপরের সঙ্গে বিল নিয়ে কথা বলে গ্রাহকরা জানতে পারেন বিপাকে পড়া গ্রাহকের সংখ্যা শতাধিক।
 
পারদূর্গাপুর গ্রামের ইন্দারাপাড়ার ইউসুফ আলীর ছেলে ইলিয়াছ আলী জানান, তার আগের মাসের বিল এসেছিল ৭শ টাকা। এবার বিল পেয়েছেন ১৭শ টাকা। গঞ্জের আলীর ছেলে সাদেক আলী পূর্বের মাসের বিল পান ২শ ৮০ টাকা। এবার পেয়েছেন ৮শ টাকা। জিয়ারউদ্দিনের ছেলে বদরুদ্দিন আগের মাসের বিল পান ৩শ ৫০ টাকা। এবার পেয়েছেন ১১শ টাকা। মহাব্বত আলীর ছেলে আতিয়ারেরও একই ঘটনা। গত মাসের বিল ছিল ৪শ টাকা। এ মাসে বিল হাতে পেয়েছেন ১ হাজার। হানেফ আলীর ছেলে আজিবরের বিল গত মাসের ৩শ ৬০ থেকে লাফিয়ে ১০ হাজার ৬০ টাকায় উঠে গেছে। মজিবর মাস্টারের বিল ২শ ৭০ টাকা থেকে এক লাফে গিয়ে দাড়িয়েছে ১২শ ৭০ টাকায়। 
 
পল্লী বিদ্যূতের ভৌতিক বিলের কারনে পারদূর্গাপুর গ্রামের হয়রানির শিকার শতাধিক গ্রাহক এর প্রতিকার পেয়েছেন। তা না হলে তারা পল্লী বিদ্যূতের বিল পরিশোধ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু