প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক জালিয়াতির অভিযোগে আটক ১

ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের চেক জালিয়াতির অভিযোগে করে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতকে গ্রেফতার করেছে মুক্তাগাছা উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সোমবার বিকেলে জালিয়াতি আইনউদ্দিনের পুত্র আমিনুল ইসলামকে (৩৫) উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের বারকাহনিয়াস্থ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। 
 
মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবর্ণা সরকার জানান, গ্রেফতার আমিনুল  নিজের দোষ স্বীকার করেছে। এখন মুক্তাগাছা থানা হাজতে রাখা হয়েছে। আইনানুসারে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। 
 
জানা যায়, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন আলী ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ২নং গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মিছিল করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ডে আঘাত পান। এরপর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হলেও হোসেনের দুটি পা ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। নিরুপায় হয়ে হোসেন আলী প্রধানমন্ত্রী বরাবর আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেন। পরে স্থানীয় এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধু ভুষণ দাস, জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন আলমসহ দলীয় নেতাদের প্রচেষ্টায় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ হতবিল থেকে এককালীন ৩০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ পান।
 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের চিঠি প্রাপ্তির পর হোসেন আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম ২৮ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, তার স্বামীর নামে বরাদ্দকৃত টাকার চেক উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সোমবার দুপুরে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবুল মনসুর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল হোসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে তার হাতে অনুদানের ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন। 
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে হোসেন আলীকে তাৎক্ষণিক ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই প্রতারক চক্রকে খোঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সোমবার বিকালে প্রতারককে গ্রেফতার করেন মুক্তাগাছা প্রশাসন।
 
ইত্তেফাক/কেআই