পাবনার চাটমোহরের পল্লীতে মঙ্গলবার ২য় শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পালিয়ে গেছে ধর্ষক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রী। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মুরগীর খামারের ঘরে টেলিভিশন দেখতে যায় ওই শিশু। সেখানে টেলিভিশন দেখছিলো একই গ্রামের হৃদয় কুমার সরকারের ছেলে সবুজ কুমার সরকার (১৮)। শিশু কন্যাটিকে একা পেয়ে সবুজ তার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ সময় মেয়েটির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় ধর্ষক সবুজ। শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চাটমোহর থানার ওসি এস এম আহসান হাবীব জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো কোন মামলা হয়নি। ধর্ষক সবুজ পালিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ধর্ষণের শিকার শিশুর মা জানান, আমার জীবনে এ ধরনের পাশবিক নির্যাতন আমি দেখিনি। যে ব্যক্তি আমার মেয়ের এই অবস্থা করেছে তার আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিশুটির বাবা কোন কথাই বলতে পারেন নাই। তিনি মাথায় হাত দিয়ে হাসপাতালের করিডোরে বসে শুধু চোখের পানি ঝড়াচ্ছিলেন।
শিশুটির চাচা বলেন, খবর পাওয়ার পর পরই আমর ভাতিজিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি, কি হবে বুঝতে পারছি না। মেয়েটি এখনো অজ্ঞান হয়ে পরে আছে হাসপাতালের বিছানায়। আমরা দিনমজুর মানুষ, সুষ্ঠু বিচার পাব কিনা সৃষ্টিকর্তাই ভাল জানেন।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম রুবেল বলেন, মেয়েটি দুপুর দুই টার দিকে হাসপাতালে ভর্তির পর পরই আমাদের সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি টিম গঠন করে অপারেশন করা হয়। সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। মেয়েটি অবচেতন অবস্থায় আছে, পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেলের আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট শামিমা নাসরিন সোনিয়া বলেন, মেয়েটি ভর্তির পর থেকেই আমরা তার পাশে আছি। আর্থিকসহ আইনগত সকল সহায়তা প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেন এই কর্মকর্তা।
ইত্তেফাক/কেআই