ছাতকে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্মাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের ঘর-বাড়ি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। পানিবন্দী মানুষের জন্য কোনো আশ্রয় কেন্দ্র খোলার খবর এখনো পাওয়া যায়নি।
পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছাতক সদর, কালারুকা, চরমহল্লা, দোলারবাজার, ভাতগাঁও, উত্তর খুরমা, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নসহ পৌরসভার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
IMG0
ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এখানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় নৌ-পথে ছোট-ছোট ফেরি নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ গেছে।
প্রবল বর্ষণে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীতে পাথর ও বালুবাহী বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেড নৌকায় লোডিং-আনলোডিং বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক। ছাতক সরকারি হাইস্কুল, চন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, জালালিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, বাগইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গদারমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ালগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত করে বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
IMG1
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের খামারের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কিছু আমন বীজতলার। ছাতক-ফকিরটিলা-নরসিংপুর, ছাতক-জাউয়া, কৈতক-হায়দরপুর, বড়কাপন-শ্রীপুর ও ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ছাতক-সিলেট সড়কের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঝুকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দুই-এক দিনের মধ্যেই ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সারাদেশের সঙ্গে ছাতকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে