পঞ্চগড় শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে। এর ফলে পৌরসভা এলাকার খালপাড়া, নিমনগর, তুলারডাঙ্গা, রামেরডাঙ্গা, পূর্ব জ্বালাসীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ওঠে।
এরমধ্যে পৌরসভার বেশ কিছু এলাকার মানুষ পঞ্চগড় হোমিওপ্যাথি কলেজ, পঞ্চগড় মহিলা মাদরাসা ও রোজবাড কিন্ডার গার্টেনে আশ্রয় নেয়।
ভারতের উজান থেকে পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে এ পরিস্থিতির অবনতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) বিকেলে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম করতোয়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এহেতেশাম রেজা, পৌর কাউন্সিলর ও সাংবাদিকরা সঙ্গে ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসক পঞ্চগড় হোমিওপ্যাথি কলেজে নিরাপদ আশ্রয় নেয়া পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে যান।
পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, সারাদিনে করতোয়া নদীর পানি বাড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নদীর পানি ছিল ৬৮.০২ মিটার। কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১.১৮ মিটার পানি বেড়ে হয়েছে ৬৯.২০ মিটার। তবে বর্তমানে করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ৫৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভারত থেকে পানি আসায় নদীর পানি বেড়েছে।
পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে পৌরএলাকার ১৭টি বস্তির মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। তাদেরকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে ও পুরো পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, দুই হাজারের মত খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের জন্য ২শ’ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমই/এমআই