টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দৈনিক ইত্তেফাকের ফটোকপি বিক্রি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দৈনিক ইত্তেফাকে মির্জাপুরে গোরস্তান উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ শীর্ষক একটি স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোড়ন ও তোলপার শুরু হয়। সকালে মির্জাপুর শহরের দুইটি পত্রিকা এজেন্সি এবং পাকুল্যা বাজার ও গোড়াই-সখীপুর রোডের হাটুভাঙ্গা রোডের পত্রিকা এজেন্সিতে ইত্তেফাকের কপি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে ইত্তেফাকের পত্রিকার বান্ডিল শেষ হয়ে যায়।
এক পর্যায়ে স্বচিত্র প্রতিবেদনটিসহ ইত্তেফাকের ফটোকপি বিক্রি শুরু হয়। দিনভারই ইত্তেফাকের ফটোকপি বিক্রি হয়েছে বলে পাকুল্যা এলাকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গোরস্তানের টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে পাকুল্যা পূর্বপাড়া গ্রামে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে টিআর বাবদ পাকুল্যা পূর্বপাড়া গোরস্তানের উন্নয়ন বাবদ এক লাখ টাকা বরাদ্দ (অনুদান) প্রদান করা হয়।এই অনুদানের টাকা উত্তোলনের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির মাধ্যমে দুই কিস্তিতে টাকা উত্তোলন করা হয়। প্রকল্প কমিটির সভাপতি হলেন ২নং জামুর্কি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াজ আহমেদ।
পাকুল্যা গ্রামের সাবেক মেম্বার নুরুল ইসসলাম পিয়ারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মতিন ফাক্কন, মো. লেবু মিয়া ডগা ও মো. হুমায়ুন কবীরসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, ২নং জামুর্কি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াজ আহমেদ ও তার সহযোগিরা নিজেদের নামে প্রকল্প কমিটি গঠন করে গোরস্তানের নামে বরাদ্ধকৃত এক লাখ টাকা উত্তোলন করে কোন কাজ না করেই পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছে। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে গোরস্তানের নামে বরাদ্দকৃত এক লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াজ আহমেদ বলেন, পাকুল্যা পূর্বপাড়া গোরস্তানের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে গোরস্তানের নামে কিছু টাকা ও অন্য কয়েকটি কাজ দেখিয়ে একটি প্রকল্প দেওয়ার কথা বলা হয়। এই শর্তে রাজি হয়ে তারা প্রকল্প জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলন। গোরস্তানের নামে প্রকল্পের টাকায় উফুল্কী, কাটরা, গুনটিয়া ও সাটিয়াচড়াসহ কয়েকটি গ্রামের কাঁচা রাস্তার মাটি ফেলাসহ উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। এলাকার কিছু দুষ্টচক্র ঘটনাকে পুঁজি করে এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আমার নামে গোরস্তানের টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এমআই