ট্রাকের চাপায় পা হারানো রাকিবের আকুতি ‘আমি পড়তে চাই’

সাইকেল চালিয়ে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল ১৩ বছর বয়সী রাকিব। রাস্তায় হঠাত্ ড্রাম ট্রাক চাপা দেয়। বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় প্রাণে বেঁচে গেলেও শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একটি পা। স্বাভাবিক জীবনযাপনে সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। সেই থেকে বন্ধ পড়ালেখা। পা হারানো রাকিবের আকুতি, “কেউ আমার দায়িত্ব নিন। আমি পড়তে চাই।” রাকিব তাড়াশের মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে ও তাড়াশ ফাজিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

রাকিবের বাবা বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাঁচজনের সংসার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রাকিব বড়। ভূমিহীন অতি দরিদ্র পরিবারটির দিন আনি-দিন খাই অবস্থা। স্বপ্ন দেখতেন, ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে মাওলানা হবে। সেই আশা বুঝি আর পূরণ হচ্ছে না! ২০ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ঘাতক ট্রাক রাকিবের বাম পা কেড়ে নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ডান পা।

ট্রাকের চালক নিজের ভুল স্বীকার করলে মালিক পক্ষ চিকিত্সার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যয় হয় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকার মতো। মালিক পক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দিয়েই লা-পাত্তা। দেনায় জর্জরিত রাকিবের বাবা আরো বলেন, দুর্ঘটনার সময় ডান পায়েরও হাড় ফেটে যায়। চিকিত্সার অভাবে ভাঙা হাড় এখনও জোড়া লাগেনি।

রাকিবের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, দিন-রাত ঘরে শুয়ে-বসে থাকে ছোট্ট রাকিব। অসম্পূর্ণ চিকিত্সায় ছেলেটা সারাক্ষণ যন্ত্রণায় কাতরায়। রাকিব পড়তে চায়। সুস্থ হয়ে আবারো মাদ্রাসায় যেতে চায়। পা হারানো রাকিব বলে, “কেউ আমার দায়িত্ব নিন। আমি পড়তে চাই। মাওলানা হয়ে বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

ইত্তেফাক/নূহু