উপজেলার প্রধান হাজিরহাট বাজার অল্প বৃষ্টিতে অলি-গলি পানিতে টই-টুমু্বর হয়ে যায়। অপরদিকে স্থানে স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, যা সাধারণের চলাচলে ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা ক্রমশ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নাকাল হচ্ছে দোকানদার, পথচারী তথা সাধারণ মানুষ। নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা ফেলার ডাস্টবিন, পাবলিক টয়লেট। রিকশা স্ট্যান্ড, বাস কিংবা লেগুনা স্ট্যান্ড না থাকার ফলে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং নাগরিক জীবনকে আরো অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
বাজারের ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং স্থানীয়রা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এক টাকার টোল ১০ টাকা আদায় হয়, অথচ আমাদের দুর্ভোগ লাঘবের দিকে না খেয়াল আছে স্থানীয় প্রশাসনের না বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির না ইজারাদারের। তারা আরো বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বলতে গেলে নেই যা আছে তা ভাঙা-চোরা ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। বছরের পর বছর না আছে পরিষ্কারের বালাই না আছে সংস্কার।
কাঁচাবাজার, মাছবাজার, ফলবাজার, গোস্তবাজার ও হাঁস-মুরগির বাজার সুনির্দিষ্ট না থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসে পড়ে যানবাহন চলাচলের ও হাটুরেদের চলাচলের রাস্তায়। ফলে নাগরিক বিড়ম্বনা আরো বেড়ে যায়।
বাজারের ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমার দায়িত্ব মালি দিয়ে বাজার পরিষ্কার রাখা ও ড্রেজেন ব্যবস্থা সচল রাখা। কিন্তু ড্রেনগুলো সব ভাঙাচোরা এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে আছে তাই পরিষ্কার করা যায় না। আর বাজারের নিত্যদিনের ময়লা অনেক সময় পরিষ্কার করা হয় না এটা আমি স্বীকার করছি, তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিব।
বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ইজারাদার নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেন পরিষ্কার করে না তাই এই অবস্থা বাজারের। বাজার উন্নয়নে ইজারার শতকরা ২৫ ভাগ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে পায়, কিন্তু গেল দুই বছর আমরা কোনো টাকা পাইনি, তাই উন্নয়নের কোনো কাজ করতে পারিনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ শামছুল আলম বলেন, প্রতিবছর একটা বাজার উন্নয়নের জন্য ইজারা থেকে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে কোনো বাজারে একটা টয়লেট বা ড্রেন করাও সম্ভব নয়।
ইত্তেফাক/নূহু