অসময়ে তরমুজ উৎপাদন করে রহিম বাদশা এখন তরমুজ বাদশা। খরচের তিনগুণ লাভ এখন তার । তিনি অসময়ের তরমুজ উৎপাদন করে অত্যন্ত খুশি।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৈইকুরী গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রহিম বাদশা।
জাকস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র অনুষ্ঠানে তিনি অসময়ের বেবি তরমুজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেন। পরবর্তীতে জাকস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন শাহিনের তত্ত্বাবধানে গত মার্চ মাসে ৩৩ শতক জমিতে তিনি বেবি তরমুজ রোপন করেন।
লম্বা লাইনের দেড় হাত পরপর রোপন করা গাছে এখন ১২শত তরমুজ। এক একটি গাছে তার ৩/৪টি তরমুজ রয়েছে। প্রতিটির ওজন ৩/৪ কেজি। জেলার পাইকাররা তার এই তরমুজ জমিতেই ৬০ টাকা কেজি দরে দাম করছেন। তিনি দেননি।
কৃষক রহিম বাদশা জানান, নেট, বাতা, মালচিং পেপার ও খুঁটির সমন্বয়ে তৈরি টোপর ঘরে খুব সহজেই এই তরমুজ আবাদ করা যায়। এতে খরচ কম। রোগবালাই নেই বললেই চলে। ফলে তরমুজের ফলন হয় ভালো। ১ বিঘা জমিতে তার ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই তরমুজ লাখের ওপর দাম করছেন পাইকাররা। খরচের তিনগুণ তার এখন লাভ। তিনি অসময়ের তরমুজ উৎপাদন করে অত্যন্ত খুশি।
কৃষি কর্মকর্তা সাইন হোসেন জানান, বেবি তরমুজ ৫৮ দিনেই ফলে। বাহিরে সবুজ, ভেতরে রক্তের মতো লাল। মিষ্টি ও অত্যন্ত সুস্বাদু। এই তরমুজের চাষ চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে হয়। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পাঁচবিবিতে প্রথম পরীক্ষামূলক হলেও বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামীতে জয়পুরহাট জেলায় তরমুজের চাষ ব্যাপক হারে বাড়বে।
ধলাহার, আয়মারসুরপুর, দড়িপাড়া, রামকৃষ্ণপুর, বালিয়াতৈর, লকমা, কল্যানপুর, কড়িয়াসহ অর্ধশতাধিক কৃষক জানান, এলাকায় এই তরমুজের আবাদ কখনো হয়নি। অসময়ে বেবি তরমুজের এমন ফলনের তারা হতবাক হয়েছেন। অল্প সময়ে সহজ উৎপাদন পদ্ধতি ও লাভজনক হওয়ায় আগামীতে তারা এই তরমুজ চাষ করবেন। তাছাড়া এই তরমুজের চাহিদাও রয়েছে সবর্ত্রই। দামও ভালো।
ইত্তেফাক/আরকেজি