ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু শনিবার

প্রকল্প গ্রহণের ৪৫ বছর পর আগামী শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। 
 
আগামী ১৪ জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি বসানোর কাজের উদ্বোধন করতে ঈশ্বরদীতে আসবেন। পরে পুলিশ লাইন মাঠে জনসভার পূর্বে পাবনার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এখানেই ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে রেলপথের উদ্বোধন করবেন তিনি। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক ইত্তেফাককে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 
 
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তদানীন্তন যোগাযোগ মন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই রেলপথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঈশ্বরদী-পাবনা হয়ে নগরবাড়ি পর্যন্ত রেলপথের প্রকল্প গ্রহণ করে জমি অধিগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেন। 
 
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় নবাগত ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) নাজমুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদীর মাঝগ্রাম হতে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ঈশ্বরদী-পাবনা রেল সেকশনে ২৫ কিলোমিটারে রেলপথের নির্মাণ প্রক্রিয়া, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, রেলগেট, রেলক্রসিং, ট্রেন চলাচলের সিগন্যাল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মোট ৭৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন। অবশিষ্ট ৫৩ কিলোমিটার দ্বিতীয় ধাপে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হবে। 
 
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী (ডিএন-২) আরিফ আহম্মেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর প্রথম ট্রেনটি ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ নামে চলবে। উদ্বোধনের সময় ইঞ্জিনসহ ছয়টি বগি নিয়ে পাবনা হতে ঈশ্বরদী পর্যন্ত চলাচল করবে। এছাড়া পরবর্তীতে পাবনা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচল করবে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি