মার্কিন বন্ধুরাই কেবল সহায়তা পাবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করে তারাই কেবল আমাদের সহায়তা পাবে। গতকাল মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৩৫ মিনিটের বেশি বক্তব্যে ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং চীনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ভেনিজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও জানান। ট্রাম্প তার ভাষণে ‘আমেরিকা ফাস্ট’ নীতিকেই গুরুত্ব দেন। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের
 
স্বার্থ রক্ষা হলেই সহায়তা
 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কিছু দেশ আমাদের কিছু দেয় না। তাই আমরা বৈদেশিক সহায়তার বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা পরীক্ষা করছি যে সহায়তায় কোনো কাজ হচ্ছে কিনা, যারা আমাদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তারা আমাদের স্বার্থ রক্ষা করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা তাদেরকেই বৈদেশিক সহায়তা দেবো যারা আমাদের বন্ধু এবং আমাদের সম্মান করে। আমরা আশা করবো সব দেশই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তার ন্যায্য ভাগটা দেবে। তিনি জাতিসংঘকে আরো কার্যকর করার অঙ্গীকার করে বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাটি কিভাবে অর্থ ব্যয় করছে তা দেখা হবে। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে জাতিসংঘের জন্য বিব্রতকর একটি প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ করেন। তিনি আন্তজার্তিক অপরাধ আদালতেরও নিন্দা জানান। তার এই বক্তব্যের তাত্ক্ষনিক সমালোচনা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধীরা উত্সাহিত হবে।
 
ইরান ও চীনের সমালোচনা
 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান শাসন করছে দুর্নীতিগ্রস্ত একনায়ক। বাইরের দেশে অরাজকতা, হত্যকান্ড এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের জন্য ইরানকে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষা হয়নি। তিনি বাণিজ্য নিয়ে চীনের কঠোর সমালোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি সংস্কারের দাবি জানান। তিনি বিশ্বায়নকে প্রত্যাখান করে বলেন, আমেরিকা শাসন করছে আমেরিকানরা। আমরা স্বদেশপ্রেমকে গুরুত্ব দিই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ সম্বোধন করে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপনাস্ত্র কর্মসূচির সমালোচনা করেন। তবে উত্তর কোরিয়া উত্সাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি