দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় লাল বা সাদা আটার তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন অনেকেই। লাল কিংবা সাদা দুটোই গম পিষে তৈরি করা হয়। গমের খোসাসহ যেটা তৈরি হয় তা লাল আটা আর খোসা ছাড়ানো রিফাইন করে তৈরি করা হয় সাদা আটা। ধবধবে সাদা হওয়ায় অনেকেই লাল আটার পরিবর্তে সাদা আটা পছন্দ করে থাকেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, রিফাইন করা সাদা আটা বিভিন্ন ধাপে খাওয়ার উপযুক্ত হয় বলে তার স্বাস্থ্যগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।
অপরদিকে লাল আটায় বিদ্যমান থাকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যগুণ। গমের বাইরের লাল বা বাদামি আবরণে অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। লাল আটায় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবারের পরিমাণ বেশি এবং ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় পুষ্টিবিদগণ সাদা আটার তুলনায় লাল আটা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
এছাড়া লাল আটার ফাইবার রক্তে ক্ষতিকর ফ্যাট কমায় ও উপকারী ফ্যাট বাড়ায়। লাল আটার অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। লাল আটা ক্ষুধা নিবারণ করে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। লিগনিন নামক উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। লাল আটায় রয়েছে থায়ামিন যা স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা রক্ষা করে। ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রচুর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
এতসব গুণাগুণ সম্পন্ন হওয়ায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লাল আটার তৈরি খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত।
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ