ফুটবল ফ্রি-স্টাইলে রেকর্ড গড়ে গিনেজ বুকে মুনতাকিম

মহামারী করোনাকে অভিহিত করা হয় বিভীষিকাময় এক অধ্যায় হিসেবে। তবে এ সময়ে অর্জনও কিন্তু কম নয়। অতিমারীর এই অবসরকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি একজন ১৬ বছরের কিশোর মুনতাকিম উল ইসলাম। হাতের স্পর্শ ছাড়া মাথার চারপাশে ফুটবল ঘোরানোকে বলা হয় ‘অ্যারাউন্ড দ্য মুন ফুটবল কন্ট্রোল ট্রিকস ইন থার্টি সেকেন্ডস’। ৩০ সেকেন্ডে ২৭ বার এ কীর্তিটি করে দেখিয়েছেন মুনতাকিম। নাম লিখিয়েছেন গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এর আগে এ রেকর্ডটি ছিল ২৫ বারের।

মুনতাকিমের বাবা শরিফুল ইসলাম পেশায় একজন ব্যাংকার। মা শাহীনুর আক্তার গৃহিণী। বাবার চাকরিসূত্রে প্রায় দুই দশক ধরে আছেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মুহুরীপাড়া উত্তরা আবাসিক এলাকায়। লেখাপড়া করেছেন স্থানীয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। সেখান থেকেই এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। 

ফুটবল নিয়ে মুনতাকিমের ভালোলাগা ২০১৮ থেকে। এরপর ২০২০ এর মহামারীতে সবকিছু যখন থমথমে, তখন তিনি এ সময়কে নিয়েছেন সুযোগ হিসেবে। সময় পেলেই হাতে নিয়েছেন ফুটবল, বাসার ছাদে ও কক্ষে অনুশীলন করেছেন নিয়মিত। পাশাপাশি বাংলাদেশে যারা ফ্রি-স্টাইল করে তাদের সাথে পরিচয় হওয়া, পরামর্শ নেওয়া, ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল দেখা সমানতালে চালিয়ে যান। এভাবে টানা দুই বছরের কসরতের পর ফ্রি-স্টাইল রপ্ত করেন মুনতাকিম। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুনতাকিম প্রথম বুঝতে পারেন তিনি গিনেজ রেকর্ড করতে সক্ষম। কিন্তু কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা তার জানা ছিলনা। তখন তিনি যোগাযোগ করেন ফ্রি-স্টাইলে গিনেস রেকর্ডধারী চট্টগ্রামের আশরাফুল ইসলাম জোহান ও নোয়াখালীর কনক কর্মকারের সঙ্গে। তাদের পরামর্শে ২০২১ সালের ১৯ মে গিনেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। তারা একটা মানদণ্ড বেঁধে দেন। সেই অনুযায়ী ভিডিও ক্লিপ পাঠান ২১ জুনে। এর প্রায় পাঁচমাস পর গিনেজ কর্তৃপক্ষের থেকে অভিনন্দন বার্তা পান মুনতাকিম। সর্বশেষ ২৯ ডিসেম্বর কৃতিত্বের স্বীকৃতি সনদ হাতে পান তিনি।

নিজের এ অর্জনের ব্যাপারে মুনতাকিম বলেন, ফ্রি-স্টাইল শেখার পিছনে সাজিদ হাসান খানের অবদান ছিল। আর গিনেজ বুকে আবেদন করার প্রক্রিয়ায় জোহান ও কনক তাকে সহযোগিতা করেছেন। রেকর্ড করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন স্বীকৃতি অনেকবেশি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে তাকে।