বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান

মাঘের বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় সদ্য লাগানো কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। কৃষকরা জানান, পানি বেশিদিন জমে থাকলে সদ্য লাগানো ধান গাছের চারা পঁচে যাবে। দ্রুত পানি কমে না হলে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে অন্যত্র অপসারণ করতে হবে। 

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চাষ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর। বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বোরো রোপনের উপযুক্ত সময়। কৃষকরা এখন জমি তৈরি ও রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম এই বৃষ্টি থামে শনিবার সকালে। সারাদিন আকাশ ভালো থাকলেও আবার শনিবার সন্ধ্যায় নেমে আসে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে নিচু জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। সরিষা, আলুসহ বিভিন্ন রবি শস্যও নষ্ট হয়ে গেছে। 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের তালুক মন্দুয়ার গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম (৫৫) জানান, বৃষ্টির পানিতে তার তিনবিঘা জমির ধান গাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশিদিন পানি জমে থাকলে ধানগাছের চারা পঁচে নষ্ট হবে। তাই দ্রুত পানি কমে না হলে ইঞ্জিনচালিত শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে পানি অন্যত্র অপসারণ করতে হবে। 

সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের হবিবুল্লাপুর গ্রামের কৃষক মো. আজাদ আকন্দ (৪৫) জানান, গত সপ্তাহে একবিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করেন। এতে চারা, শ্রমিকসহ খরচ হয় তিন হাজার টাকা। কিন্তু একদিনের বৃষ্টিতে সেই জমি হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে। 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের চাপাদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল জোব্বার মিয়া (৫৫) জানান, এবার অনেক আশা নিয়ে চারবিঘা জমিতে বোরো রোপন করেন। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সব জমির ধান তলিয়ে গেছে। পানি বেশিদিন স্থায়ী হলে ধান গাছ পঁচে যাবে।   

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাঘের বৃষ্টি চাপাদহ গ্রামের প্রায় ৩০ একর জমি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগকে জানানো হয়েছে।’ 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টিতে বোরোধান, সরিষা, আলুসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জরিপ না করে এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পানিতে ডুবলেও বোরো ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।’