কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্সের ভাসমান পাঠশালা

হাওরের বিশাল জলরাশির মাঝ দিয়ে দিগন্তজোড়া সড়ক মেলে ধরেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা চিত্রকর্ম। দ্বীপের মতো ভেসে আছে চারপাশের গ্রামগুলো। কিশোরগঞ্জ হাওরের মোজাহিদুলের নজর পড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দিকে। সুবিধাবঞ্চিত ও বেদেপল্লির শিশুদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখা শুরু করলেও তেমন একটা সমর্থন পাচ্ছিলেন না। কিন্তু এবার ইচ্ছাটা শুধু মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলেন না, কিছু তরুণ-তরুণী মিলে কাজ শুরু করে দিলেন। গড়ে তুললেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্স।

এখন কিশোরগঞ্জের ভাসমান শিশুদের বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি। এর সদস্যরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্সের সদস্যরা একটু ভিন্নভাবে ভাবলেন— সবাই তো স্কুলে যাচ্ছে, স্কুলে যেতে পারছে না শুধু বেদেপল্লির অবহেলিত শিশুরা। তাছাড়া করোনা মহামারিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ঝরে পড়া রোধের কথা চিন্তা করে গড়ে তুলেন একটি পাঠশালা। সেই থেকে হাওরের শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষিত শৈশবের জন্য দরিদ্র ও মেধাবীদের মাঝে তারা টাকা, বিনামূল্যে খাতা কলম ও নতুন ইউনিফর্ম উপহার দিচ্ছেন। তাছাড়া সুবিধাবঞ্চিতদের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি ওষুধ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশুশ্রম বন্ধেও কাজ করছে সংগঠনটি।

বেদে পল্লীর শিশুদের জন্য পাঠশালা [ছবি: সংগৃহীত]

ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন অলওয়েদার সড়ক চালু হওয়ার পর দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচলের ফলে সম্প্রতি অনেকগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। জনসচেতনতা সৃষ্টি ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে সংগঠনটি স্থাপন করেছে সতর্কতা ব্যানার এবং পর্যটক ও গাড়ির চালকদের দিয়েছে সতর্কতামূলক লিফলেট।

পাঠশালায় পড়াশোনা করছে বাচ্চারা [ছবি: সংগৃহীত]

মোজাহিদুলের কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্সের কার্যক্রম নতুন মাত্রা পেয়েছিল ২০২১ সালে। করোনা মহামারিতে সেসময় মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েছিল। হাওরাঞ্চলের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট, মাস্ক, স্যানিটাইজার বিতরণ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পাশে দাঁড়ান। হাওরের নারীদের সাবলম্বী করতে গড়ে তোলেন স্বপ্ন টেইলার্স। সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেককে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারবে। 

মোজাহিদুল বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের সদস্যরা সকলেই শিক্ষার্থী। টিফিন ও টিউশনির টাকায় আমরা সামাজিক কাজ করছি। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা মিলে হাওরে ভুট্টা চাষ করি। বিক্রি করে যে অর্থ আসে সংগঠনের কার্যক্রমে খরচ করা হয়।'