ব্যাংকের যোগসাজশে কোটি টাকা আত্মসাত্

জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাত্কারী এক পলাতক প্রতারক তিন বছর পর গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃত প্রতারকের নাম এহসানুল হক ওরফে শিমু। রাজধানীর শেরে শেরেবাংলা নগর থানার তালতলা এলাকা থেকে গত ২৪ এপ্রিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর টিম) তাকে গ্রেফতার করে। পিবিআই তাকে ২ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, দ্বিগুণ লাভের আশায় তিন কাঠা জমি বিক্রির কোটি টাকা ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ-এর রোকেয়া সরণি শাখায় দুইটি হিসাব নম্বরে জমা রেখেছিলেন মিরপুরের বাসিন্দা শাহনাজ শম্মী। জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িত দালাল এহসানুল মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় ৩ মাস মেয়াদি আমানতের জন্য সাড়ে ১৪ টাকা হারে সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এহসানুলের কথায় সরল বিশ্বাসে এক কোটি টাকা মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন শম্মী। ছেলেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর বন্দোবস্ত হবার পর ব্যাংকে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, অ্যাকাউন্ট শূন্য। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী শাহনাজ শম্মী বাদী হয়ে এহসানুল হক ওরফে শিমুর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, শাহনাজ শম্মীর পল্লবীর রূপনগরে ৩ কাঠা জমি বিক্রয়ের সময় সাহায্য করেন ও জমির বিক্রির এক কোটি টাকা রোকেয়া সরণির ন্যাশনাল ব্যাংক শাখায় দুইটি হিসাব নম্বরে জমা দেন অভিযুক্ত এহসানুল হক শিমু। একটি ৬ বছর মেয়াদি ডবল বেনিফিটের মেয়াদি হিসাব নম্বরে ৫০ লাখ টাকা ও অপরটি ৩ মাস অন্তর মুনাফা প্রদেয় ৫ বছর মেয়াদি হিসাব নম্বরে ৫০ লাখ টাকা।

তবে এহসানুল বাদী শাহনাজকে জানায়, ব্যাংক ৩ মাস মেয়াদি হিসাবের সুদের হার কমিয়ে ১৩.৫০ টাকার স্থলে ১১.৫০ টাকা করতে চায়। তবে একই ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় তার স্ত্রীর বড় ভাই আছেন। ওই শাখায় ৩ মাস মেয়াদি আমানতের জন্য সাড়ে ১৪ টাকা হারে সুদ দেবে।

এহসানুলের কথায় রাজি হন শাহনাজ। এক কোটি টাকা স্থানান্তরে সরল বিশ্বাসে ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ রোকেয়া সরণি শাখায় দুইটি হিসাবের ইন্সট্রুমেন্টের বিপরীতে স্বাক্ষর করে দেন তিনি। এবং একইভাবে কথিত মতিঝিল ন্যাশনাল ব্যাংক লি. কর্পোরেট শাখায় দুইটি হিসাব খোলার জন্য দুই ইন্সট্রুমেন্ট প্রদান করেন। বাদীর স্বাক্ষরিত সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টের একটা ব্যাংক চেক গ্রহণ করে এবং বলে হিসাব ট্রান্সফার-এর জন্য এবং কর্পোরেট শাখার হিসাব খোলার জন্য সামান্য কিছু টাকা প্রয়োজন হবে।

বাদী সরল বিশ্বাসে ব্যাংক চেকটি প্রদান করলে এহসানুল হক শিমু, ব্যাংক কর্মচারী কর্মকর্তা এবং অন্য কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজশে বাদীর ৬ বছর মেয়াদি হিসাবের বিপরীতে তার সই স্বাক্ষর ও লেখা জাল করে বাদীকে গ্যারান্টার দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করে গড়াই অটো মোবাইলস-এর নামে এসওডি ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাত্ এবং চেক জালিয়াতির মাধ্যমে এহসানুল তার প্রতিষ্ঠানের নামে চলতি হিসাবে ৫১ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেন। টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংক কর্তৃক বাদীকে কোনো কিছুই অবগত করেনি।

অস্ট্রেলীয় দূতাবাস বাদীর ছেলের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার বিষয় নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেখতে চাইলে বিপত্তি সৃষ্টি হয়। রোকেয়া সরণি শাখার ম্যানেজারের দেওয়া সলভেন্সি সার্টিফিকেট জাল হিসেবে ধরা পড়ে। বাধ্য হয়ে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন শাহনাজের ছেলেকে ৩ বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়া যাওয়া স্থগিত করে দেয়।

বাদী ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রতারক এহসানুল ব্যাংক হিসাবের এক কোটি এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা আত্মসাত্ করেছে। শুধু তাই নয়, আরো জানতে পারেন যে, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ মতিঝিল কর্পোরেট শাখার কোনো অস্তিত্ব নেই।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এহসানুল হককে দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরো মামলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার অপর সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।