রাজশাহীতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সর্ববৃহৎ ম্যুরাল’। রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীর সিএন্ডবি (কাজীহাটা বাজার) মোড়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর এই ম্যুরালটি হবে দেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। ম্যুরালটি উদ্বোধনের পর স্থানটি বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর হিসেবে ঘোষণার জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে নিশ্চিত করেই বলা যায়, সিএন্ডবি মোড়ের নতুন নামকরণ হবে ‘বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর’।
জানা যায়, ওইদিনের সভায় আলোচনার একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের মধ্যে ফোনালাপ হয়। সেখানে মেয়র এবং ডিসি উভয়েই নগরবাসীর সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেন।
উল্লেখ্য, ভূমিসহ নানা প্রতিবন্ধকতা শেষে রাজশাহী মহানগরীর সিএন্ডবি মোড়ে বঙ্গবন্ধুর এই ম্যুরাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় রাসিক। রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধুর এই ম্যুরাল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
শুক্রবার সিএন্ডবি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। সেখানে ঠিকাদারের ম্যানেজার জানান, রাসিক মেয়র নিজেই শুরু থেকে এই ম্যূরাল নির্মাণ কাজের সার্বিক খোঁজ-খবর রাখছিলেন। চলমান নির্মাণ কাজের কোথাও নিজের অপছন্দ হলে তিনি সাথে সাথে ঠিকাদারকে জানিয়েছেন এবং সে অনুসারে কাজ সংশোধন করা হয়েছে।
রাসিকের প্রকৌশলী দপ্তর সূত্র জানায়, সিএন্ডবি মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি দেশের সবচেয়ে বড়। ম্যুরালের উচ্চতা ৫৮ ফুট। ম্যুরালের মূল অংশে বঙ্গবন্ধুর ছবিটি ৫০ ফুট উচ্চতা এবং ৪০ ফিট দৈর্ঘ্য। এটির ফাউন্ডেশনে ২২টি পাইলিং করা হয়েছে।
বাউন্ডারি ওয়ালের দুই ধারে ৭০০ বর্গফুট টেরাকাটার কাজ করা হচ্ছে। এক ধারে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের লোকজ সাংস্কৃতির নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। অপর দিকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হচ্ছে। গ্যালারি, ল্যান্ডস্কেপিং এ উন্নত গ্রানাইট দ্বারা সজ্জিত করা হচ্ছে ম্যুরালটি। নির্মাণ কাজ শেষে সুসজ্জিত বৈদ্যুতিক বাল্ব দ্বারা নাইটভিশন করা হবে। ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন আমিরুল ইসলাম এবং ল্যান্ড স্কেপিং কাজের তত্ত্বাধানে রয়েছেন স্থপতি আবির রহমান।
রাসিক সূত্র জানায়, গগ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ম্যুরালটির উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে কিছু কাজ বাকি থাকায় তা সম্ভব হয়নি। গতকাল শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়াির) শুরু বাংলাদেশ-ভারত সংস্কৃতিক মিলনমেলায় ভারত থেকে এসেছেন ৬০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এসব রাষ্ট্রীয় অতিথিবৃন্দের ভ্রমণ সিডিউলে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আজ শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শ্রদ্ধা নিবেদন ও পরিদশণের কথা রয়েছে। তবে শিগগিরই (১৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন-জাতীয় শিশু দিবসে) ম্যুরালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।