দৃষ্টিনন্দন জার্সির নেপথ্যে যারা

মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে, ক্রিকেট নিয়ে বাঙালির  উন্মাদনা সবসময়ই চরমে! ক্রিকেটের হালচাল, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কিংবা ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণে সবসময়ই মত্ত থাকেন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে ক্রিকেটবোদ্ধা সকলেই। বাদ যায় না জার্সির মতো বিষয়গুলোও। সাম্প্রতিক সময়ে জার্সি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা সমালোচনা কম-বেশি সবারই দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম এবারের জার্সিটি! 

সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নতুন জার্সি পড়ে মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে এবার আর নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম হয়নি। দর্শক মহলে বেশ নন্দিতই হয়েছে এবারের জার্সিটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে নতুন এই জার্সি। দৃষ্টিনন্দন এই জার্সির নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ এর তিন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজীম, জাওয়াদ নাফি এবং ইরতিজা তাহমিদ।

এই জার্সি পরে এবার মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ দল

ক্রীড়ামোদী এই তরুণেরা জানান, করোনাকালীন সময়ে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ থেকেই নিজ নিজ উদ্যোগে ইউটিউবে থাকা বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে অ্যাপের মাধ্যমে নকশা করার বিষয়টি আয়ত্ত করেন।  ভালো বোঝাপড়া থাকায় নিজেদের মধ্যে একটি দল গঠন করে শুরুতে নিছকই কৌতূহলের বশে বিভিন্ন দলের 'কনসেপ্ট কিট' নকশা করা শুরু করেন। 'দি ট্রায়ো' নামে সোশ্যাল মিডিয়া এজেন্সি হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই দলের জার্সি নকশায় প্রথম সাফল্য আসে জাতীয় টেস্ট দলের জন্য করা অনুশীলন কিট টি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। 

জার্সি নকশায় তাদের পারদর্শিতার প্রামাণ্য এখন সাকিব-তামিমদের পরনে শোভা পাওয়া স্তুতি ছড়ানো মূল জার্সিটি। নিজেদের এই অর্জনে বেশ রোমাঞ্চিত তারা। পরিবার, আত্মীয়-পরিজন, সহপাঠী, শিক্ষকমন্ডলী এবং বন্ধু মহলের তারিফ আর সমর্থনে উচ্ছ্বসিত তারা। নিজেদের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তারা বলেন, 'এই অনুভূতি সত্যিই অনন্য। খানিকটা স্বপ্ন পূরণের মতোই। ক্রিকেটের ব্র্যান্ড ভ্যালু তো সবারই জানা। আর আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশও এখন বিশ্ব দরবারে সমাসীন। আমাদের নকশা করা জার্সি পড়ে সাকিব-তামিমরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, ব্যাপারটা সত্যিই দারণ, গর্বের।'

তিন বন্ধু

তবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমন একটি জার্সি নকশা করা খুব সহজ ছিল না। আর সাম্প্রতিককালে জার্সি বিতর্কের বিষয়টি কাজটিকে আরও চ্যালেঞ্জিং বানিয়ে ফেলেছিলো। উপযুক্ত রঙ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্যাটার্নের সম্মিলন, গঠনবিন্যাস, এমনকি সম্প্রচারের সময় জার্সিটি কেমন দেখাবে তা নিয়েও অতি সূক্ষ্ণ বিশ্লেষণ করে নকশাটি কোন ধাচের হবে তা বিবেচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের রুচিবোধ, সৃজনশীলতা, বিশ্বমানের সমসাময়িক জার্সিগুলো নিয়ে বিস্তর পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ এবং ব্যক্তিগত পারদর্শীতার চুড়ান্ত রূপায়নই এই জার্সি। 

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরের জনপ্রিয় দল বাংলা টাইগার্সের পূর্ণাঙ্গ টিম সেটের নকশারও এই তিন তরুণ। আপাতত লক্ষ্য হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জার্সি নকশা করার ইচ্ছাপোষণ করেছেন তারা। ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবল কিংবা অন্য যেকোনো খেলার জার্সি নকশা করারও প্রয়াস ব্যক্ত করেন তারা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে চুক্তিভিত্তিক নকশাকরণের কাজটি চালিয়ে যেতে চান তারা। আর আশা রাখেন তাদের নকশা করা জার্সিতে মাঠ মাতাবেন তারকারা।