আগামী দিনের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ১৬:১৯
দিন বদলের ডাকে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ
নানা রাজনৈতিক তিক্ততার মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতার ৪১টি বছর পেরিয়েছি। কালো বিড়ালধারী কিছু রাজনীতিবিদ ক্ষমতা আর কালো টাকার পাহাড় গড়তে রাজনীতিকে পুঁজি করে দুর্নীতির আখড়া গড়েছে। খুন, ধর্ষণ, গুম, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন রকম অপকর্মে গ্রাস করে রেখেছে সম্ভাবনাময় এই বাংলাদেশকে। এখন সময় এসেছে দিন বদলের, আমরা আর কোন এক এগারো দেখতে চাই না। বাংলাদেশ বিদেশিদের চোখে একটি অমিত সম্ভাবনাময় দেশ। আমাদের দেশ অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি-বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত, কুয়াকাটা, পাহাড়ী চা বাগান , সুন্দরবন, গ্যাসক্ষেত্র, পোশাকশিল্প ইত্যাদি বিশ্বের কাছে প্রশংসার দাবিদার। শুধু রফতানি ক্ষেত্রে নয়, এদেশের মানুষ মেধা আর সৃজনশীলতায়ও খুবই ব্যতিক্রমী। শিক্ষা ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা অনেক এগিয়ে। জার্মানভিত্তিক ডয়েচে ব্যাংকের গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, 'ইতিবাচক দিকে এগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি'। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স বৃদ্ধি, কৃষি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু আমূল পরিবর্তন নয়। উন্নয়ন যেটুকু হয়েছে তা লোক দেখানো। এই সম্ভাবনাময় ছবির মত সুন্দর দেশটি একুশ শতকে পদার্পণ করেও নানা কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। আর তার প্রধান কারণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতি। কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও সস্তা শ্রম বাজার থাকা সত্ত্বেও বিদেশিরা এদেশে বিনিয়োগ কিংবা শিল্প স্থাপনায় সাহস পায় না; যা আমাদের দেশের উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। এমনকি দুর্নীতির কারণে বৈদেশিক সাহায্যও অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যায়। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস এটা মাথায় রেখে রাজনীতিবিদদের দেশ পরিচালনা করতে হবে। আমরা একুশ শতকের এই সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে উন্নতির স্বর্ণশিখরে দেখতে চাই। আমরা প্রগতিশীলরা দেশকে সামনের দিকে যতই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ততই পিছিয়ে যাচ্ছি। আর এর জন্য রাজনীতিবিদদের দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালবাসায় যথেষ্ট।
মো. শরিফুল ইসলাম
২য় বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
২৫৫, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
-----
সোনালী আলোয় ভরে উঠবে
আমাদের প্রতিটা সকাল
সমস্যার সাত নদী পেরিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে সম্ভাবনার দিকে যতই এগিয়েছি, হাতে গোনা কয়েকটি সমস্যার জন্য ততই পিছিয়েছি আমরা। লক্ষ মানুষের রক্তস্নাত লাল সবুজের দেশ বাংলাদেশ। মানচিত্রে যার অস্তিত্ব খুঁজে পেতে চোখে চশমা লাগাতে হয়। মানচিত্রের ছোট্ট এই দেশটি তার অপরিসীম সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে এখনো স্বপ্নভূমি হয়ে আছে। মোঘল সম্রাট হুমায়ন এই দেশ ঘুরে গিয়ে একে 'স্বর্গের দরজা' নামে আখ্যায়িত করেছিলেন। চীনের এক পর্যটক বলেছিলেন-'এ দেশের মাটি এতটাই উর্বর যে এখানকার মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে তা আমি বিশ্বাস করি না ।' সেই বাংলাদেশ আজ সুনির্দিষ্ট কিছু সমস্যার কারণে সবদিক থেকেই তার জৌলুস হারিয়েছে। পড়ে আছে অতীতের কিছু নমুনা। যা হীরের টুকরোর মতো চকচক করে আমাদের চোখে-মুখে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়। বিচ্ছুরিত আলোর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সমষ্টিকে পুঁজি করে এদেশকে আবারো তার হারানো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশটাকে মনের মতো করে সাজিয়ে তুলতে দেশের প্রতি একটুখানি ভালোবাসাই যথেষ্ট। দেশকে ভালোবাসলে দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে। আর দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এমনিতেই দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে ইচ্ছা করবে। আমাদের দেশের নেতৃত্ব পর্যায়ে যারা আছে তারা যদি সৎ হয়, দেশ গড়ার জন্য আন্তরিক হয়; দেশের সমস্যাগুলোকে একটা একটা করে খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করে; তবে দেশ হয়ে উঠবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, বেকারমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চার প্লাটফর্ম। রাজনীতিতে ফিরে আসবে স্থিরতা, উন্নতি হবে আইন-শৃঙ্খলার। ধনী-গরীব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আইন হবে সবার জন্য সমান। তবেই আমাদের প্রতিটা সকাল আবারো সোনালী আলোয় ভরে উঠবে। দুর্দশার শৃঙ্খল ভেঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ।
সোহায়েল হোসেন (সোহেল)
মাস্টার্স, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
২৫৫/ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
-----
নবদলের সূর্যোদয়স্থল হবে আগামীদিনের বাংলাদেশ
'মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় আড়ালে তারর্ সূয হাসে' মাতৃভাষা মাতৃভূমি পরাধীনতার মেঘাচ্ছন্ন আকাশে দীর্ঘদিন পর উদিত হয়েছিল '৫২ ও '৭১-এর স্বাধীনতার সূর্য। গৌরবময় উদয়স্থলের স্বাধীন জনগণ আজ বিবেকহীন নেশা রুচিহীন অশ্লীলতা, গণতন্ত্রহীন রাজনীতির ঘোরাস্থায় গৌরবের সূর্য হারাতে বসেছে। এই নাজেহাল জনগণের দিন কাটে সড়ক দুর্ঘটনা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গরীবের আহাজারী, মানবতাহীন রাজনীতির হাঙ্গামা-দাঙ্গামা, অরাজকতা ও কালোবাজারির মেঘে। এবং রাতকাটে ডাকাতি, ছিনতাই, চোরাকারবারী, লুটপাট ও ধর্ষণের মেঘে। কিন্তু স্বদেশপ্রেমী চিন্তাশীল জনগণ চায় দেশে ও জাতির শান্তি-কল্যাণ রাজনৈতিক, আর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারের নতুন সূর্যোদয়। তাদেরকে আলোর পথ দেখাতে চায় বাংলার প্রবীণ রাজনীতিবিদরা ও শিক্ষাবিদরা। কেননা তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা পেয়েছে জাতির উত্থান-পতন এবং ক্ষমতার মসনদ চিরদিনের নয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতি ঘাত-প্রতিঘাতের ফলাফল পেয়েছে ইট ছুঁড়লে পাটকেল খেতে হয়। অরাজকতা ও দুর্নীতির ফলাফল পেয়েছে, পাপ বাপকে ছাড়ে না। এ মুহূর্তে জাতির কর্ণধর দেশপ্রেমীরা বিবেচনা করছে দল জাতি নির্বিশেষে জাতীয় উন্নয়নে নতুন দিগন্তের উন্মোচন, নবধারা ও নতুন দলের সূর্যোদয় । ইহাই হোক তমাসাচ্ছন্ন দিকহারা চিন্তাশীল নবপ্রজন্মের আরব বসন্তের শপথ এবং নবদলের সূর্যোদয়স্থল হবে আগামীদিনের বাংলাদেশ।
আরিফ হাসান মারুফ
বি.এ অনার্স (৩য় বর্ষ),
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
-----
কল্যাণমুখী ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ
দেখতে চাই
লক্ষ শহীদের রক্তস্নাত পথ বেয়ে আজকের বাংলাদেশ। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আজকে আমরা একটি লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি। কিন্তু সেই লাল সবুজের পতাকার মান কী আমরা রক্ষা করতে পেরেছি? পেরেছি কী আমাদের জাতীয় স্বকীয়তা বজায় রেখে একটি সভ্য ও শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হতে? পারিনি। আর না পারার অন্যতম কারণ হলো আমরা আমাদের আগামীদিনের ভবিষ্যৎ তরুণ ও যুব সমাজকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারিনি। পারিনি তাদেরকে নৈতিকতার মানদণ্ডে উন্নীত করতে। যার কারণে আজ হাজারো মাস্টার্সধারী মেধাবী শিক্ষার্থী ও দেশগড়ার কারিগর থাকার পরও আমরা পিছিয়ে পড়ছি। কারণ একটাই আমরা তাদেরকে মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিচ্ছি, সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিচ্ছি, কিন্তু আদর্শিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা দিতে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হচ্ছি। যার ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি গ্রহণ করার পরও তারা থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে। কর্ম জীবনে প্রবেশ করে দেশের সেবা করার পরিবর্তে তারা নিজের সেবা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। কারণ এই ছেলে/মেয়েটি যখন একটি সরকারি চাকরির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দারস্থ হচ্ছে তখন তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে কর্মজীবনে সে প্রদেয় অর্থ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এখান থেকেই দুর্নীতি শুরু হচ্ছে। তাই আসুন কল্যাণমুখী, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সর্বগ্রাসী দুর্নীতিকে গুডবাই জানাই। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয় একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
বেলাল হোসাইন মাহিনী
এল.এল.বি. (প্রথম বর্ষ),
শহীদ মশিউর রহমান আইন মহাবিদ্যালয়, যশোর।