আগামী দিনের বাংলাদেশ

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে সংশোধন করে ভবিষ্যেক সুন্দরভাবে সাজাতে হবে সমাজ দেশ জাতি রাজনীতি কখনোই ভালো হবে না এমন কথাটা যে বলে আসলে সেইই চায় না এ দেশে কোন পরিবর্তন হোক। আর তার এই কথায় ভোট দিয়ে পক্ষে চলে যায় কিছুসংখ্যক লোক। দল ভারি হয়ে যায় পরিবর্তনের বিপক্ষে। স্বাধীনতার আগেও আমরা বলেছি স্বাধীন হলেই দেশ বদলে যাবে। উন্নয়ন হবে আমাদের জীবন যাপন। ঠিক স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও আমরা বলছি আগামীতে দেশ বদলে যাবে। মনে হয় আবারও ৪১ বছর পর আমরা একই কথা বলবো, আগামীতে দেশ বদলে যাবে। এভাবে বলতে বলতে মুখে মুখেই থেকে যাবে আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশ। আগামীর প্রত্যাশা করাই হলো ভালো কিছু। তাই এভাবে আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের অপেক্ষায় বসে না থেকে এখনই পরিবর্তন করাটাই অতি জরুরি। আমি আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবর্তন না হই তবে কোন দিনই দেশ জাতি সমাজ রাজনীতি পরিবর্তন হবে না। শুধু মুখে প্রচার করাটাই সার হবে যে, আগামী দিনের বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ। দেশ পরিচালনার যে সব ক্ষেত্রগুলো আছে সে সব ক্ষেত্রের সার্বিক পরিবর্তন করে উপযুক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। রাজনীতির ধারা পাল্টালেই, আইনের সুষ্ঠুু ব্যবহার হলে, সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা আর সকল কাজের বৈধতা থাকলেই আমরা আগামী দিনের বাংলাদেশ পাবো। অতীত বর্তমানকে সাবধান করে দেয় ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার জন্য। তাই আমাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে সংশোধন করে ভবিষ্যেক সুন্দরভাবে সাজাতে হবে। এভাবে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন না করে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার ভাবনা ভাবা আদৌ উচিত নয়। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই পরিবর্তিত হলে আমরা বলতে পারবো স্বাধীনতার ৪১ বছর পর হলেও আমরা পেয়েছি বা পেতে যাচ্ছি অশিক্ষা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত ও ভেদাভেদহীন উন্নয়নশীল আগামী দিনের বাংলাদেশ। আর কবির মতোই আমাদের ব্রত হোক- এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি নবজাতকের কাছে—এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। মো. নূরুল ইসলাম, বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড বিভাগ প্রথম বর্ষ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ, ধানমন্ডি, ঢাকা। ০০০ আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে হলে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে যে দেশে স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরেও সন্ত্রাসের জন্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাঁপে সে দেশের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে আমি এটা বলতে পারি না আগামী দিনের বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়। কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে ছাত্রজীবনের শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত অনৈতিক রাজনীতির প্রভাব লক্ষণীয় এরপর বাকি জীবনেও রাজনীতির প্রভাব আমাদের যে কোন সরকারের বেলায় হেস্তনেস্ত করে চলছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গুটিকয়েক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও চলছে রাজনীতি চর্চার রমরমা কারবার। মনে হয় তাদের কার্যকলাপের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের মত অসহায় ছাত্রছাত্রীর অবস্থান। আমরা শিখছি মেধাবী ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হলে সেখানে রাজনৈতিক দলের রাবনরা গিয়ে সবকিছু ফেলে দিবে, মেধাবী ছাত্রদের হুমকি দিবে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের চশমা ও মোবাইল ভাঙবে, শিক্ষকের গায়ে হাত তুলবে, কোন এক ছাত্রের লাশ ডাস্টবিনে পড়ে থাকবে, মেধাবী ছাত্রের রগ কাটা হবে-এসব। আজকের রাজনীতি এগুলো আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয় টিভি টক শোগুলোতে দু’দলের নেত্রীরা অকথ্য ভাষায় গালি দিবে, দলের দোষ খুঁজতে খুঁজতে ব্যক্তিগত বিবিধ দোষ বিশ্বের সকল মানুষকে জ্ঞাত করাবে। আমরা এমন রাজনীতির পক্ষপাতী নই। কিন্তু এসব অন্যায় আমরা মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। যে রাজনীতি নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারতাম অথচ সেই রাজনীতিতে মেধাবী ছাত্ররা ভয়ে অংশ গ্রহণ করে না। মিধাহীন অধৈর্যশীল দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা হচ্ছে বিভিন্ন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়ভাই বা রাজনীতির ব্যক্তিবর্গ। যেখানে একটা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অথচ তারা নিজেদের পেট পূজায় ব্যস্ত এ কথা কারো অজানা নয়, তবুও তারা সগর্বে মাথা উঁচু করে চলাচল করে, টিভি পর্দায়ও তাদের দেখা যায়। আগামী দিনের বাংলাদেশ যদি টিকে থাকতে চায় তাহলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হোক মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে। তা না হলে অনৈতিক কার্যকলাপ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে। যে ব্যক্তি এলাকায় আগে চুরি-ডাকাতি করতো সেই ব্যক্তি এখন গ্রামের মেম্বার-চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয় আর এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। যে ছাত্র শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে সেই ছাত্র প্রতিষ্ঠানের বড়ভাই কিংবা সরকারি দলের জেলাভিত্তিক কোন এক নেতা। দীপ্তি মন্ডল দিতি, হিসাব বিজ্ঞান (১ম বর্ষ), সরকারি সাদত কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল। ০০০ জনগণের কল্যাণে কাজ করলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সুন্দর অনেক রক্ত সম্ভ্রম ও প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে নিপতিত। কোন দেশপ্রেমিকের কথাই এখন পুরোপুরি ঠিক ধরে নিতে পারছি না। আমরা শুধু বাংলাদেশি জনগণের কল্যাণে কাজ করার মতো দেশপ্রেমিক চাই। তা কিন্তু অন্য রাষ্ট্রে বাসকারীর জন্য সাধ্য হবে বলে মনে হয় না। কারণ আমি মনে করি ভিনদেশি জামাই বাবু এবং তার পরিজনেরা শুধু বলবে দিতে পারে না। এদের দীর্ঘ সময় আর সাধ্য দেখে যাচ্ছি। তাদের আর বিশ্বাস করে লাভ নেই। তাই বলবো এখন বাংলাদেশি জনগণের কল্যাণে কাজ করুন, দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে এবং ইতিহাসের আস্থাজনক স্থানে নাম থাকবে। তাই বাংলাদেশি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তবেই দেশ হবে উন্নত। দেশ গড়ে উঠবে সোনার বাংলায়। মোঃ খায়রুল বাশার (রিপন), এল এল বি (প্রিলি) বরিশাল ল’ কলেজ, বরিশাল। ০০০ দা- কুমড়া সম্পর্ক না করে এক টেবিলে বসে কাজ করলে আগামীতে বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশে রূপান্তরিত হবে এশিয়ার সম্ভাবনার বাজার হিসেবে বাংলাদেশ সুপরিচিত হয়েছে অনেক আগেই। বাংলাদেশের রপ্তানির ৬৭ শতাংশ আসে পোশাক শিল্প থেকে, বাকি ৩৩ শতাংশ আসে অন্যান্য শিল্প থেকে। শুধু রপ্তানি ক্ষেত্রেই নয়, এদেশের মানুষ মেধা ও সৃজনশীলতায় এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করেছে। সরকার ও জনসচেতন নাগরিকগণ যদি এগিয়ে আসে তাহলে আমরা আরও দ্রুত বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হবো। আমরা একধাপ পিছিয়ে পড়ছি শুধুমাত্র নোংরা রাজনীতির কারণে। বিশ্বে সব দেশেই রাজনীতি হয় কিন্তু তারা আমাদের থেকে ব্যতিক্রম। তারা তাদের দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করে, আমরা নিজেদের জন্য। কে খেলো না খেলো সেদিকে তাকানোর দরকার আমাদের নেই। আজকাল আমরা মনে করি রাজনীতি করা মানে নিজের স্বার্থ হাসিল করা। আমাদের দেশে গুম, হত্যা, ধর্ষণসহ নানারকম অসামাজিক কাজ হচ্ছে। সেদিকে কারও খেয়াল করার দরকার নেই। আমরা হিংস্র বন্য প্রাণীর মত আচরণ করছি। বিশ্বের কোনো সভ্য দেশে এসব হয় কিনা আমার সন্দেহ। আবু জাহেলের যুগে আমরা ফিরে এসেছি। আমাদের দরকার নেই। অর্থের জোরে নানা অপকর্ম করেও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছি। কিছু সুবিধাভোগী রাজনীতিক নেতা আমাদের আগামী প্রজন্মকে ব্যবহার করে অপরাধকর্মে লিপ্ত করছে। রাজনীতিক বড় দুই দলের মধ্যে চলছে দা-কুমড়া সম্পর্ক। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা আরও পিছিয়ে পড়বো। আমাদের সকলের উচিত প্রতিহিংসা না করে বন্ধুত্বমূলক আচরণ করা। এক টেবিলে কাজ করে দেশের জন্য কিছু করা। বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক এগিয়েছি। চলতি অর্থ বছরেও দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৫তম। আমাদের রাজস্ব আয়ও গত বছরের তুলনায় ৬.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসুন আমরা সবাই একত্রে কাজ করি। তাহলেই আমরা আগামীতে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসাবে উপহার দিতে পারি। এই দেশ আপনার আমার সবার। আমাদের সকলের দায়িত্ব দেশকে রক্ষা করা। শায়লা আক্তার, রামপুরা একরামুননেছা স্কুল এন্ড কলেজ, দ্বাদশ শ্রেণী, বিভাগ ব্যবসা, ঢাকা।