অস্ত্র ও রক্ত দিয়ে পশ্চিমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা!
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪১
‘অস্ত্র ও রক্তে’র মধ্যে দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো অন্যান্য দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। গত শনিবার রাশিয়ার বৈদেশিক নীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক বৈঠকে সিরিয়া বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি একথা বলেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইতার তাস।
এ সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার জোট না বাঁধার বিষয়টি আবারো নিশ্চিত করেন তিনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তুরস্ক সফরের দুই দিন আগে এ মন্তব্য করলেন ল্যাভরভ। পুতিনের ওই সফরের আলোচনায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধই প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ল্যাভরভ বলেন, ‘শুধু বিরোধিতা করার জন্যই পশ্চিমা প্রভাব বা তাদের উদ্যোগগুলোর বিরোধিতা করছে না রাশিয়া। মূল বিষয়টি হলো অস্ত্র ও রক্তের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা সফল হয় না—গত কয়েক মাস, গত দেড় বছরে এটি আরো পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পশ্চিমাদের পদক্ষেপ উল্টো প্রতিক্রিয়া বয়ে এনেছে। এর ফলে কট্টরপন্থী ও দমনমূলক শক্তিগুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে সত্যিকারের গণতন্ত্রের দিকে যাত্রার গতি কমিয়ে দিয়েছে।’
গত ২০ মাস ধরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদকে উত্খাতে তত্পর বিদ্রোহী বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে পশ্চিমা ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। প্রেসিডেন্ট বাশারকে রাশিয়া অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ করছে এ দেশগুলো। আসাদকে অস্ত্র সহায়তা দেয়ার কথা অস্বীকার করে রাশিয়া জানিয়েছে লিবিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতির মতো একই অবস্থা সিরিয়াতেও সৃষ্টি হতে দেবে না রাশিয়া। লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিদ্রোহীদের সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘ দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। রাশিয়া জানিয়েছে—আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির বিষয়ে বিদেশ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আরোপ করার বিরোধী তারা।
এ ছাড়া আসাদ সরকারের পতনে ‘আরব বসন্তে’ শাসন ব্যবস্থা বদলে যাওয়া অন্যান্য দেশের মতো সিরিয়ায়ও কট্টরপন্থী শক্তিগুলোর উত্থান ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটি। সমপ্রতি সিরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মেকদাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আল-কায়েদাসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের তত্পরতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গেন্নাদি গালিতভ। এ ছাড়া সিরিয়ার সংঘাত ক্রমবর্ধমানভাবে ‘আন্তধর্মীয় সংঘাতে রূপ নিচ্ছে’ বলে উদ্বেগ করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।