আতঙ্কের নগরী দামেস্কের চারপাশে প্রচণ্ড সংঘর্ষ

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কর চারপাশে গত শুক্র ও শনিবার বাশার আল-আসাদের সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়েছে। এছাড়া, বিদ্রোহীরা ইরাকের সীমান্তর্বর্তী একটি তেলক্ষেত্র দখল করে নিয়েছে। এদিকে, সিরিয়ায় তিনদিন পর শনিবার ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী শনিবার রাজধানী দামেস্কের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণ করেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। বিদ্রোহীরাও পাল্টা জবাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিরোধী আন্দোলনকর্মীরা। এছাড়া, শুক্রবার সরকারি বাহিনী সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইর্বিন শহর এবং দামেস্কের দক্ষিণাঞ্চলে গোলাবর্ষণ করেছে। এ দু’টি অঞ্চল বিদ্রোহীদের শক্তিশালী ঘাঁটি। মানবাধিকার বিষয়ক সিরীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী থেকে দামেস্ক বিমানবন্দর যাওয়ার পথ আবার খুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে সংঘর্ষ চলার একদিন পর এটি খুলে দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর অভিমুখী একটি গাড়িবহরে হামলায় অস্ট্রেলিয়ার চারজন সৈন্য আহত হয়। অস্ট্রেলিয়ার এসব সৈন্য গোলান মালভূমিতে জাতিসংঘ বাহিনীতে নিযুক্ত ছিলেন। বিমানবন্দর সড়ক ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দারায়াসহ দামেস্কে শুক্রবার সামরিক বাহিনীর অভিযান ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। দামেস্কের সামরিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী বিমানবন্দর অভিমুখী সড়কের পশ্চিমাংশ এবং ভোর নাগাদ পূর্বের একটি ছোট অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং যাতায়াতের জন্য বিমানবন্দর সড়ক খুলে দিয়েছে। সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার বিমান চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে। ওই এলাকায় বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষের পর বিমানবন্দর রাস্তা আবার খুলে দেয়া হয়েছে। এদিকে, সিরিয়ায় তিনদিন পর গত শনিবার ইন্টারনেট ও টেলিফোন-সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইন্টারনেট ও টেলিফোন-সংযোগ না থাকায় পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল সিরিয়া। তবে গতকাল রাজধানী দামেস্কসহ সিরিয়ার অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট-সংযোগ ফিরে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বব্যাপী অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা রেনেসাঁ জানিয়েছে, সিরিয়ার অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনার জন্য সিরিয়া সরকারকে দায়ী করেছেন। বিরোধীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এর আগেও এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল আসাদ সরকার।