নতুন সংবিধানের ব্যাপারে গণভোটের ঘোষণা মুরসির
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০২
মিসরের প্রেসিডেন্ট মুরসি আগামি ১৫ ডিসেম্বর সেদেশে গণভোটের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংকটের অবসান হবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি গত শনিবার খসরা সংবিধান হাতে পাওয়ার পর সেটি পাস করার জন্য গণভোটের পরিকল্পনার কথা বলেন। ১০০ সদস্যের সংবিধান প্রণয়ন
কমিটির সাথে বৈঠকের ঠিক আগে তিনি এই ঘোষণা দেন। মুরসি খসড়া সংবিধানের প্রশংসা করে বলেন, এটি বিপ্লবের লক্ষ্য পূরণের জন্য আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া। কমিটির প্রধান হোসাম আল ঘেরযানি বলেন, সংবিধানে স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে যা আগে ছিল না। এর আগে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি থেকে সরে পড়েন উদারপন্থি ও কপটিক খ্রিস্টানদের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ কমিটি ইসলামিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
খসড়া সংবিধানের বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে মুরসি সকল মিসরবাসীর প্রতি গণভোটে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নিজেদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মিসরবাসী কিভাবে গড়ে তোলে তা দেখার জন্য বিশ্ববাসী অপেক্ষা করে আছে।”
বিবিসির কায়রো প্রতিনিধি জন লিনে জানিয়েছেন, গণভোটের মাধ্যমে শুধু মিসরের সংবিধানের ভবিষ্যতই নির্ধারিত হবে না এর মাধ্যমে দেশটির ভবিষ্যত্ গন্তব্যও নির্ধারিত হবে।
এদিকে একইদিন ইসলামপন্থি মুরসির সমর্থকরা কায়রোতে সরকারের ইসলামী নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশাল সমাবেশ করেছে। সমাবেশে অন্তত ২ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রবিবার মিসরের বিচার বিভাগীয় সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের সাংবিধানিক পার্লামেন্টের বৈধতা বিষয়ে একটি রায় দেয়ার কথা রয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালত সাংবিধানিক পার্লামেন্টের বৈধতা বাতিল করলে গণভোটের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন বিবিসির কায়রো প্রতিনিধি।
শুক্রবার খসড়া সংবিধানটির ওপর পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। এর আগে সংবিধানের প্রস্তাবিত ২৩৪টি ধারা নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা বৃহস্পতিবার সারারাত ধরে চলে।
শুক্রবার সকালে পার্লামেন্টের উদারপন্থি, ধর্মনিরপেক্ষ ও খ্রীস্টান সদস্যরা পার্লামেন্টের অধিবেশন থেকে বের হয়ে যায়। নতুন সংবিধানে ইসালামপন্থিরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গী চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে ভোট প্রত্যাখান করে তারা।