বসতি স্থাপন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও অনড় ইসরাইল

পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের ৩ হাজার নতুন বসতি স্থাপন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ইতিমধ্যে এর প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। কিন্তু ইসরাইল বেপরোয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর নিন্দাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বসতি স্থাপন কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। স্পর্শকাতর ওই অঞ্চলে ইহুদি বসতি স্থাপন পরিকল্পনা শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘এক ভয়াবহ অশনি সংকেত’ বলে হুঁশিয়ার করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনকে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়ার পক্ষে ভোট দেয়ার পরপরই ইসরাইল কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অতিরিক্ত ৩ হাজার বসতি নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। যুক্তরাজ্য বলছে, ইসরাইলের এ পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্য তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করবে। এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইসরাইলকে তাদের সিদ্ধান্ত আবারো ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায়, ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। ইসরাইল সরকারের নতুন বসতি নির্মাণ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এ পদক্ষেপ ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার দ্বিপাক্ষিক সমাধানের সম্ভাবনা ব্যাহত করছে। ওদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এ পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানাতে সোমবার সকালের বৈঠকে তলব করা হয়েছে প্যারিসে নিয়োজিত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে। ইসরায়েলকে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিবিসি সংবাদদাতা পিটার বিলেস। তবে তিনি বলেন, ইসরাইল থেকে এ দু’ দেশের রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, সুইডেনও তাদের ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। অন্যদিকে ইসরাইলের পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাশিয়া এবং জার্মানি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রবিবার বিশ্বব্যাপী নিন্দা-সমালোচনা উপেক্ষা করে বসতি স্থাপন চালিয়ে যাওয়ায় অটল অবস্থান জানিয়েছিলেন। এর পরপরই বান কি মুন এ পরিকল্পনাকে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয় ও হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করেন এক বিবৃতিতে। “সঙ্কট নিরসনে এ পদক্ষেপ অশনি সংকেত হিসাবে দেখা দিয়েছে” বলে মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা অপ্রত্যাশিত এবং এর ফলে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন বলেছেন, অতিরিক্ত বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্তে তিনি ‘খুবই চিন্তিত’। ফিলিস্তিনের নেতা মাহমুদ আব্বাস বসতি স্থাপন বন্ধ করে শান্তি আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।