টাইফুন বোপার আঘাতে লণ্ডভণ্ড
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৪৪
মঙ্গলবার টাইফুন বোপার আঘাতে লণ্ডভণ্ড ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল। এ সময় সামুদ্রিক ঝড়টির আঘাতে ব্যাপক ভূমিধ্বসের ঘটনাও ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এ অঞ্চলের সকল ধরনের বিমান চলাচল এবং জাহাজ পরিসেবা বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার মিন্দানাও দ্বীপের পূর্ব উপকূলে আকস্মিকভাবে ঘন্টায় ২১০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে ঝড়টি। এসময় প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধস হয়। এতে দ্বীপটিতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয় তা জানা যায়নি। তবে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষজন। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে পাড়ি জমাচ্ছে তারা। ইতিমধ্যেই ৮০টি বিমান উড্ডয়ন বাতিলসহ সকল ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে এক বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছে, সকল জাহাজকে বন্দরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কোস্টগার্ড। এর ফলে অনেক যাত্রী বন্দরে আটকা পড়ে এবং কষ্ট পোহাতে হয়। বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান বেনিতো রামোস জানান, দক্ষিণাঞ্চলের সুরিগাও ডেল সুর এবং দাভাও ওরিয়েন্টাল প্রদেশের অন্তত আট পৌর এলাকার বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া আগুসান ডেল সুর প্রদেশের কিছু অংশে দেখা দিয়েছে বন্যা। ৪১,০০০ এরও বেশি লোক কাছাকাছি এক হাজার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। প্রচুর বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে সৃষ্ট বন্যায় মিন্দানাওয়ের সবচেয়ে বড় শহর কাগায়ান ডি ওরোর বাণিজ্যিক কেন্দ্র তলিয়ে গেছে।
দেশটির বেশিরভাগ এলাকার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বেনিগনো একুইনো বোপার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার আহ্বান জানান। এ ঝড়টি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ঘন্টায় ১৭৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে আসে এবং এর গতিবেগ ঘন্টায় ২১০ কিলোমিটার হয়।