কায়রোয় বিক্ষোভকারীদের সাথে
মুরসিপন্থিদের সংঘর্ষে নিহত ৫
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৩২
কায়রোতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আশেপাশে বিক্ষোভকারী ও মুরসিপন্থিদের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ও অন্তত ৪ শত জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও রাস্তায় সংঘর্ষ, জ্বালাও পোড়াও চলছিল। সংঘর্ষ চলাকালে ্্্্একপক্ষ অপর পক্ষের দিকে পাথর ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছিল। মুরসি বিরোধীদের শ্লোগান ছিল স্বৈরাচারকে মানব না। মুরসিপন্থিদের শ্লোগান ছিল মুরসিকে টিকিয়ে রাখা ইসলামকে টিকিয়ে রাখা। সংঘর্ষ থামানোর জন্য বুধবার দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ভবনের চারপাশে ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে প্রাসাদ ছেড়ে যাওয়ার পরে বুধবার সকালে আবার ফিরেছেন প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসি। বুধবার সকালেও অন্ততপক্ষে দু’শ বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে অবস্থান করছিলো বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সূত্রগুলো।
মঙ্গলবার রাতে নতুন খসড়া সংবিধানের ওপর আহূত গণভোটের প্রতিবাদে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কায়রোর হেলিওপোলিস এলাকায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে এগিয়ে যায়। মিছিলের একটি অংশ পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে প্রাসাদের দেয়ালের কাছে পৌঁছে গেলে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের সামাল দেয়ার চেষ্টা করে দাঙ্গা পুলিশ। এরপর মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
নতুন খসড়া সংবিধানের ওপর আহূত গণভোটের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে এগিয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ঘেরাও করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলকে ‘শেষ হুঁশিয়ারি’ বলে অভিহিত করে আন্দোলনকারীরা। ‘জনতা স্বৈরাচারের পতন চায়’, মিছিলে স্লোগান তুলে তারা। মিছিলের একটি অংশ পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে প্রাসাদের দেয়ালের কাছে পৌঁছে গেলে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের সামাল দেয়ার চেষ্টা করে দাঙ্গা পুলিশ। এরপর মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়।
‘সংবিধানকে না বলুন’ লেখা জাতীয় পতাকা নিয়ে আসা বিক্ষোভকারীরা ‘সরে যাও, সরে যাও’ বলে স্লোগান তুলে পুলিশকে সরে যেতে বলে। এক পর্যায়ে পুলিশকে হটিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পেছনের গেটের উপর উঠে যায়। এ সময় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের দখল নিয়ে তাতে পতাকা টাঙিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা, এর অল্প দূরেই দাঙ্গা পুলিশকে একপাশে সরে থাকতে দেখা যায়। এরই মধ্যে কোনো এক সময় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে সরে যান মুরসি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেসিডেন্সিয়াল একটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্রও মুরসির প্রাসাদ ছাড়ার খবর নিশ্চিত করে।
উদারপন্থি, বামপন্থি ও বিক্ষুব্ধ অন্যান্য গোষ্ঠীর সরকার বিরোধী জোটের মুখপাত্র হুসেন আব্দেল গানি বলেন, আমাদের এই মিছিল স্বৈরাচার ও ভুয়া সাংবিধানিক ডিক্রির বিরুদ্ধে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
মুরসির ‘একনায়কত্বের’ প্রতিবাদে মিশরের সর্বাধিক পঠিত স্বাধীন সংবাদপত্রটিও মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়নি। কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়। গত ২২ নভেম্বর ব্যাপক ক্ষমতা অধিগ্রহণ করে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করেন মুরসি। এই ডিক্রি জারিকে কেন্দ্র করে হোসনি মুবারকের পতনের পর আবারও উত্তাল হয়ে ওঠে মিশর। বিরোধীরা তাকে নতুন ‘ফারাও’ বলে অভিহিত করে একনায়ক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করে। এর প্রতিবাদে টানা আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু মুসরির ইসলামপন্থি সমর্থক প্রভাবিত সাংবিধানিক পার্লামেন্টে ‘তড়িঘড়ি’ করে খসড়া সংবিধান অনুমোদন করে তা প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেয়। সংবিধানের জন্য গণভোটের ডাক দেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। প্রস্তাবিত সংবিধানে ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে ও এতে ইসলামপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পেয়েছে অভিযোগ করে এর বিরোধিতা করতে থাকে সরকার বিরোধীরা। দেশটির বিচার বিভাগের সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়ে পড়ে মুরসির সমর্থকরা। এসব রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে মিসর আবারো অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।