অর্থনীতি
কেন তবে বিদ্ধ করা
কথার কাঁটায়
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৩
কয়েক বছর যাবত্ মাননীয় অর্থমন্ত্রী তার বিরূপ মন্তব্য বা উক্তির জন্য সমালোচিত হয়েছেন, তম্মধ্যে শেয়ারবাজার নিয়ে মন্তব্যগুলোর জন্য বহুল সমালোচনা হয়েছে এবং শেয়ারবাজার সংশোধিত হয়নি বরং আরও তলিয়ে গেছে। মাত্র কয়েক মাস আগে হলমার্ক কেলেংকারিতে ‘৪,০০০ কোটি টাকা কিছু না, ব্যাংকগুলো ৪০,০০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে’ মন্তব্যটি সারাদেশে সমালোচিত হয়, এমনকি সংসদের ভিতরও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাধ্য হয়ে মন্ত্রী মহোদয় দুঃখ প্রকাশ করেন, এখন তিনি স্বীকার করেছেন যে, হলমার্ক কেলংকারি ব্যাংকিং সেক্টরে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সর্বশেষ কয়দিন আগে তিনি মন্তব্য করেন ‘বাপেক্স একটি স্টুপিড সংস্থা’। এ মন্তব্যের পর বাপেক্সের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা/অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ,কাজ-কর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের মন্তব্যে যদি দুর্নীতিবাজরা ভয় না পায় ও ভালো লোকেরা উত্সাহিত না হলে কথার কাঁটায় বিদ্ধ করে কি লাভ? এতে বরং দেশে ক্ষতি। বাপেক্স একটি কর্মক্ষম প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কৈলাশটিলার ৪নং কূপটি বাপেক্স ২০০৫ সালের দিকে নতুন করে চালু করে। ২০১১ সালে আবার গ্যাসের চাপ কমে গেলে বাপেক্স নতুন প্রযুক্তিতে ত্রিমাত্রিক জরিপ চালিয়ে নতুন লেয়ার পাওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করে। তারপর খনন চলে। গত মাস থেকে দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করার ব্যবস্থা করে বাপেক্স সিলেট গ্যাস ফিল্ডের নিকট কূপটি বুঝিয়ে দেয়। বাপেক্স বন্ধ হয়ে যাওয়া আরও অনেক ক্ষেত্রে ত্রিমাত্রিক জরিপ চালিয়ে গ্যাসের খোঁজ পেয়েছে এবং খনন কাজ সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ডে বাপেক্সের ৫টি রিগ কাজ করছে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে দেশের সর্বত্র ত্রিমাত্রিক জরিপ (ভূকম্পন জরিপ) ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কারের কাজ চলছে। জরিপ ও কূপ খননে দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন স্বরূপ বাপেক্সের প্রায় দেড় ডজন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সনদ লাভ করেছেন। ফলে বাপেক্সের সক্ষমতা ও দক্ষতার পরিচয় পেয়ে বিদেশি অনেক কোম্পানি এদের জরিপ ও খনন কাজের প্রস্তাবসহ আকর্ষণীয় মজুরি দিয়ে নিয়োগ করতে চাচ্ছে। তাই বাপেক্সের দক্ষ, মেধাবী ও যোগ্য সোনার ছেলেদের দেশ হারাতে পারে যদি অতি শিগগির তাদের বেতনভাতা বৃদ্ধি না করা হয়।
ইতিমধ্যে বাপেক্সে থেকে ১১০ জন কর্মকর্তা উচ্চ বেতনভাতায় দেশের ভেতরে ও বাইরে বিদেশি কোম্পানিতে যোগদান করেছেন। তাই বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোর দৃষ্টি এখন বাপেক্সের মেধাবী ও দক্ষ জনবলের দিকে। লোভনীয় বেতনভাতা দিয়ে তাদের ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। বিদেশি তেল কোম্পানিতে যেখানে ম্যানেজার পর্যায়ের কর্মকর্তা সর্বসাকুল্যে মাসে ৪ লাখ টাকা বেতনভাতা পায়, বাপেক্সে সেখানে মাত্র ৬০,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। সে প্রেক্ষিতে বাপেক্সের কর্মকর্তারা এতো কম বেতনে পড়ে থাকার কথা নয়। বিদেশি তেল কোম্পানিকে নিযুক্ত করলে গ্যাসের ওয়েল হেড মূল্য বাপেক্সের তুলনায় ৫ থেকে ১০ গুণ গুণ বৃদ্ধি পাবে তাতে দেশের ক্ষতি, জনগণের ক্ষতি, রাস্ট্রের ক্ষতি। তাই অতিদ্রুত বাপেক্সের জন্য নতুন ও স্বতন্ত্র বেতনভাতার কাঠামো মঞ্জুর করা উচিত। আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতগুলোতে দুর্নীতি, আত্মসাত্ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে চলছে। বিদ্যুত্ ও পানিতে ভর্তুকি/চুরির জন্য দেশ রাজস্ব্ হারাচ্ছে কিন্তু গ্যাস খাতে এখনও রাজ্স্ব প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখতে হলে বাপেক্সের দক্ষ, সত্ ও মেধাবী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু বেতনভাতা বৃদ্ধি নয়, তাদের জাতীয় পুরস্কার দিয়ে উত্সাহিত করা উচিত। বাপেক্সকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করলে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্যাস উত্তোলন করে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।
লেখক :এফসিএ ও কথা সাহিত্যিক
aliidris446¦yahoo.com