সর্বশেষ সম্মেলন সংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে একাধিক ধনী দেশ এগিয়ে আসার ইঙ্গিত দিলেও যুক্তরাষ্ট্র চলমান দোহা জলবায়ু সম্মেলনে ওই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করেছে। দেশটির যুক্তি—ক্ষতিপূরণে ব্যয় হবে সীমাহীন। কাতারের রাজধানী দোহায় জাতিসংঘের ১৮তম জলবায়ু সম্মেলনে চলমান আলোচনার শেষ পর্যায়ে পারস্পরিক লাভ-ক্ষতির হিসাব নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর চূড়ান্ত সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা উদ্যোগের বিরোধীতা করে, তাহলে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে যাবে বলে হুমকি দিয়েছে। জলবায়ু সম্মেলনে সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। এ ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অবস্থান সুস্পষ্ট নয়। তবে তারা সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। পরিবেশদূষণের জন্য দায়ী অন্য শীর্ষ দেশগুলোর (যেমন কানাডা) সমর্থন আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন তত্পর। সমঝোতা উদ্যোগের একমাত্র বিরোধীতাকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উভয়-সংকটে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হয় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে জলবায়ু পরিবর্তনের নৈতিক দায়ভার নিতে হবে অথবা চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শেষ দিন আর্থিক ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণের বিষয়টিই দোহা সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত পঞ্চদশ জলবায়ু সম্মেলনে ধনী দেশগুলো ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উত্পাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ওই অর্থ দেয়ার কথা ছিল।