হাঙ্গেরিতে দক্ষিণপন্থি প্রবণতা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৯
ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায়ই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে চরম দক্ষিণপন্থি শক্তি। তবে হাঙ্গেরিতে বিষয়টি এমন এক মাত্রায় পৌঁছেছে যে, গোটা মহাদেশ জুড়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। — খবর ডয়চে ভেলের।
‘নািসরা নিপাত যাক’, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়’—বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যাচ্ছিল এমন স্লোগান। গ্রাম থেকেও অনেক মানুষ এসে রাজধানী বুদাপেস্টে এই নব্য-ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। হিটলারের নািস জার্মানিতে ইহুদিদের যে ‘স্টার অফ ডেভিড’ চিহ্ন পরতে বাধ্য করা হতো, বিক্ষোভকারীরাও সে রকম চিহ্ন পরেছিল। হাঙ্গেরির গণতান্ত্রিক দলগুলির প্রতিনিধিরা নিজেদের মতভেদ ভুলে একসঙ্গে অঙ্গীকার করলেন। তাঁরা বললেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে চরম দক্ষিণপন্থিদের হাত থেকে রক্ষা করা হবে? হাঙ্গেরি আর কখনো বর্ণবাদ ও গণহত্যা বরদাস্ত করবে না। গত রবিবার বুদাপেস্টে সংসদ ভবনের সামনে দেখা গেল সচেতন নাগরিকদের এই সমাবেশ। বিতর্কের সূচনা হাঙ্গেরির চরম দক্ষিণপন্থি ‘জবিক’ পার্টির সংসদীয় দলের উপ-প্রধান মার্টন জিয়নজিয়োশি’র মন্তব্যকে ঘিরে। সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে এই দলের ১২ শতাংশ আসন রয়েছে। সেই এমপি দাবি করেন, দেশে ইহুদিদের আলাদা করে এক তালিকায় নথিভুক্ত করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর ইউরোপে এক জনপ্রতিনিধি সংসদে দাঁড়িয়ে এমন কথা বলায় বলাই বাহুল্য, চরম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রায় ৩০টি দল ও সংগঠনের ডাকে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। আয়োজকরা আরও বেশি মানুষ আশা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০,০০০ মানুষ এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রায় দু’বছর পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদেরও একই মঞ্চে দেখা গেল।