[ রা জ নী তি ]

সমমনাদের দলবদল :দুষ্কর্ম ঢাকতে অনুপ্রবেশ তত্ত্বের জোচ্চুরি

বিশ্বজিত্ দাসের নির্মম হত্যার ঘটনা মনে নাড়া না দিয়ে পারে না। প্রকাশ্য দিবালোকে চোখের সামনে, টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ার ফটোসাংবাদিক ও রিপোর্টারদের সামনে একদল দুর্বৃত্ত বিশ্বজিেক কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করেছে। মৃতপ্রায় অবস্থায় বিশ্বজিেক চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে নিলে তার চিকিত্সায় বাধা দেয়া হয়। পরে অন্য এক হাসপাতালে নেয়া হলেও ততক্ষণে তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। বিশ্বজিেক চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি-রডের আঘাতে হত্যা করার ভিডিওচিত্র সব টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে এবং একাধিক অ্যাঙ্গেল থেকে তোলা অনেক ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। সবকিছু জেনে-দেখে একই সাথে বুকভাঙ্গা কান্না, বোবাধরা ভীতি ও উন্মত্ত ক্রোধের আগুন মনে জাগরিত না হয়ে পারে না। বিশ্বজিত্ দাসের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক ঘটনা। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যে সব কাণ্ডকারখানা ও কথাবার্তা কেউ কেউ করছে ও বলছে, সেগুলো মর্মবেদনা ও ক্রোধকে আরেক ধাপ বাড়িয়ে না দিয়ে পারে না। বিশ্বজিত্ হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৯ ডিসেম্বর, রবিবার, আজ থেকে আটদিন আগে। এই ঘটনার মাসখানেক আগে থেকেই জামাতে ইসলাম দেশব্যাপী রাজপথে তার সন্ত্রাসী তাণ্ডব শুরু করেছিল। তাদের দাবি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারাধীন তাদের আটক নেতাদের মুক্তি দিতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ও বিচারের জন্য গঠিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ বাতিল করতে হবে। পুলিশ, মন্ত্রী, বিজিবি ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে পরপর সন্ত্রাসী অভিযান চালাতে থাকে। পুলিশের রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে তা দিয়েই তারা পুলিশকে পেটাচ্ছে, আর পাশে দাঁড়িয়ে নিশ্চুপ হয়ে আরেক দল পুলিশ সে দৃশ্য দেখছে—এ ধরনের ছবি পত্রিকায় প্রকাশ হতে থাকে। জামাতের প্রতি সাধারণ মানুষের ধিক্কার ও ঘৃণা আরো তীব্র হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বক্তৃতা করে বলেন যে, জামাতের সহিংস তত্পরতার দায় বিএনপি নিবে না। এর কিছুদিন আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ভারত সফর করেন। হাইপ্রোফাইল এই সফরে তিনি এতোদিন ধরে চলা অন্ধ ভারতবিরোধিতার সুর থেকে ভিন্নতর এক বন্ধুত্বের সুরে কথা বলা শুরু করেন। জামাত কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়তে শুরু করে। অথচ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় প্রদানের সময় এগিয়ে আসতে থাকে। স্বাক্ষী-প্রমাণ প্রদর্শনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালে দুই পক্ষের যুক্তি-তর্ক শোনার পর্ব শুরু হয়ে যায়। কারো ক্ষেত্রে তা শেষও হয়ে আসে। যে কোন দিন রায় প্রদানের তারিখ ঘোষণা হওয়ার অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া উপনীত হয়। এসবের কারণে জামাত তার সহিংস তত্পরতায় আরো মরিয়া হয়ে ওঠে। বিএনপির অল্প সময়কালের ‘জামাত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলার’ নীতি ও সহনশীলতার আচরণে আবার পরিবর্তন আসে। বিএনপির জামাত-পছন্দ লবি সক্রিয় হয়ে সামনে চলে আসতে সক্ষম হয়। এককভাবে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া জামাতের তত্পরতাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ১৮ দলকে সক্রিয় করে তার কর্মসূচি গ্রহণ শুরু হয়ে যায়। যুদ্ধাপরাধীদের ছবি ও তাদের মুক্তির দাবিতে ফেস্টুন-শ্লোগানে জামাত ১৮ দলীয় সমাবেশগুলোকে প্লাবিত করে ফেলে। সমাবেশে ছবি নিয়ে আসা যাবে না বলে প্রদত্ত বিএনপির নির্দেশ কোনো কাজে আসে না। ১৮ দল থেকে ৯ ডিসেম্বর দেশব্যাপী রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি দেয়া হয়। রাজপথ অবরোধের ঠিক ৫ দিন আগে ৪ ডিসেম্বর জামাত অকস্মাত্ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করে। হরতালের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিতে হবে ও ট্রাইব্যুনাল বাতিল করতে হবে। এই দাবিতে আগের দিন সমাবেশ-মিছিল করার অনুমতি চাইলে সরকার তা দিতে অস্বীকার করেছিল। একে তো জামাত আসলে একটি অবৈধ দল। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরই এদেশে তার বৈধভাবে কাজ করার অধিকার লুপ্ত হয়ে গেছে। অধিকন্তু এই দলটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া বানচাল করার লক্ষ্যে দূরভিসন্ধিমূলক দাবিতে সমাবেশ করতে চাইলে সরকার যে তাতে বাধা দিবে, তাই তো আইনসঙ্গত, স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু, ‘সভা করতে না দেয়ার প্রতিবাদে; হরতাল ডাকা হয়েছে বলে অজুহাত দেখিয়ে বিএনপি জামাতের সেই হরতালে ‘নৈতিক সমর্থন’ দেয়। নৈতিক মদত পেয়ে জামাত ক্যাডাররা ৪ ডিসেম্বরের হরতালে যুদ্ধাভিযানের কায়দায় সহিংসতা চালায়। ফলে ৯ ডিসেম্বরের রাজপথ অবরোধের কর্মসূচিকে সহিংস করে তোলার পটভূমি জামাত রচনা করে নেয়। বিএনপির নেতাদের একাংশের হিসেবে জামাতের মরিয়া হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নেমে পড়ার এই অবস্থাকে বিএনপি তার অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজে লাগানোই সঠিক কৌশল বলে বিবেচিত হয়। বাহ্যিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির মূল অ্যাজেন্ডা হলেও তার প্রকৃত মূল অ্যাজেন্ডা হলো তারেক ও কোকোকে মুক্ত করে এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা। জামাতের সহিংস মরিয়া প্রয়াসকে ব্যবহার করে যদি সরকারকে সেই ইস্যুতে ‘সংলাপে’ আনা যায়, তাতে মন্দ কি? মার্কিন রাষ্ট্রদূত তো সরকারকে ‘সংলাপের মাধ্যমে জামাতের সাথে মতপার্থক্য নিরসনের পরামর্শ (নির্দেশনা!) দিয়েছেনই। ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দিতে পারলে ক্ষতি কি? ৯ ডিসেম্বর সহিংসতা এভাবে আবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় সিপিবি ও বাসদ (সেই সাথে বাম মোর্চাও) জামাতের অভিযানকে মোকাবেলার জন্য জামাত নিষিদ্ধ করা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি ত্বরান্বিত করার দাবিসহ গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যা ও জনজীবনের জরুরি সমস্যা নিরসনের ইস্যুতে ১৮ ডিসেম্বর দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে। সহিংসতার মাধ্যমে ‘পরিস্থিতি’ সৃষ্টির জামাত-বিএনপির পাতা ফাঁদে পা না দিয়েই পাল্টা রাজনৈতিক অফেনসিভ চালানোর চিন্তা থেকেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সেই পথে না গিয়ে জামাত-বিএনপির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক অভিযানের বদলে পাল্টা সহিংসতা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার পথ গ্রহণ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্য সভায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে মাঠে নেমে জামাত-বিএনপি ক্যাডারদের ‘শায়েস্তা করার’ আহ্বান জানান। ‘ক্যাডাররা’ প্রস্তুত হয়ে যায়। ৯ ডিসেম্বর পাল্টাপাল্টি দু’পক্ষের ক্যাডাররা প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামে। এমতাবস্থায় সহিংসতা অনিবার্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে ১৮ দলীয় জোট হলো এককভাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বদলে বিএনপি-জামাত নেতৃত্বাধীন জোট। এই জোটটি বিএনপি আর জামাতের মধ্যে কার নেতৃত্বাধীন, তা নিয়ে সংশয় ও বিতর্কের যথেষ্ট কারণ এখন সৃষ্টি হয়েছে। যাকে বাস্তবে মূল অ্যাজেন্ডা করে তোলা হয়েছে তথা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি ও ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং সহিংসতার মাধ্যমে একটি ‘পরিস্থিতি’ সৃষ্টির যে কর্মকৌশল জামাত গ্রহণ করেছে, সেই বিবেচনা থেকে বলা যায় যে, ১৮ দলীয় জোট চলছে জামাতের নেতৃত্বে। অন্যদিকে জমায়েত শক্তি, জনপ্রিয়তা, প্রভাব, ভাবমূর্তি ইত্যাদি বিবেচনায় ১৮ দলীয় জোট সন্দেহাতীতভঅবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন একটি জোট। দু’পক্ষের একটি ‘ম্যারেজ অব কনভিনিয়েন্স’ নিয়ে তারা চলছে। আওয়ামী লীগ এই মিলনের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েও এখন পর্যন্ত তাতে ব্যর্থ হয়েছে। সহিংসতা ও সংঘাতের যে পটভূমি আগে থেকে তৈরি হয়েছিল, তারই নির্মম বলি হয়েছে ২৪ বছরের নিরপরাধ দরজি দোকানদার বিশ্বজিত্ কুমার দাস। অন্যান্য অসংখ্য সহিংস ঘটনা সেদিন ঘটেছে। ঢাকাতেই গাড়ি পুড়েছে ও ভাংচুর হয়েছে দেড়শতাধিক। ক্ষতি হয়েছে অনেক সম্পদের। ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে জনগণ। মুহুর্মুহু ককটেল ফুটেছে, টায়ার-আসবাবপত্র পুড়েছে দেদার। চোরাগোপ্তা হামলা-আক্রমণ হয়েছে। এসব সহিংস ঘটনার ফলে জনমনে সৃষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের সাফ-সাফ জানিয়েছিলেন যে, এসব সহিংস ঘটনার জন্য বিএনপি বা জামাত দায়ী নয়। তাদের কর্মীরা আগুন দেয়া, ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ কিছুই করেনি। এসব ঘটনা যা ঘটেছে সবই বিএনপি ও জামাত কর্মীর লেবাস নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরাই করেছে। লীগের অনেক কর্মী তাদের মিছিলে অনুপ্রবেশ করে ১৮ দলকে বদনাম দেয়া ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এসব দুষ্কর্ম ঘটিয়েছে। কিছুদিন আগে তাদের ডাকা হরতালের আগের রাতে বাসে আগুন দিয়ে ঘুমন্ত ড্রাইভারকে যখন তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তখনো তারা বলেছিল যে, তাদের পরিচয়ে এ কাজ আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী ক্যাডাররা করেছে। এদিকে, বিশ্বজিত্ দাসের হত্যার দায় অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারাও স্রেফ জানিয়ে দিলেন যে, হামলাকারীরা কেউ ছাত্রলীগের নয়। ছাত্রলীগের মিছিল থেকে হামলা হয়েছে মর্মে অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের প্রত্যক্ষ বিবরণের মুখে পড়ে তারা সামান্য সুর ঘুরিয়ে বললেন যে, সে কথা সত্য হলেও যারা বিশ্বজিেক আঘাত করেছে তারা কেউ ছাত্রলীগের লোক না। তারা ছিল ছাত্রলীগের মিছিলে অনুপ্রবেশ করা বিএনপি ও শিবিরের কর্মী। আঘাতকারীদের নাম-ধাম ছবি পরিচয়ের মুখোমুখি হয়ে তারা বলা শুরু করলেন যে, এরা ছাত্রলীগ হিসেবে পরিচিত হলেও তারা সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। কবে বহিষ্কৃত হয়েছে, এবং যদি আগেই বহিষ্কৃত হয়ে থাকে তবে কেন সেসব বহিষ্কৃতদের সেদিন ছাত্রলীগের মিছিলের সামনে থাকতে দেয়া হলো, এরূপ প্রশ্নের কোন জবাব তারা দিতে পারেনি। তবে, পাল্টা প্রোপাগান্ডা হিসেবে চিহ্নিত ৮/১০ জন হত্যাকারীর মধ্যে ২/৩ জনের চৌদ্ধগুষ্ঠীর খবর বের করে এনে তারা দেখানোর চেষ্টা শুরু করলেন যে, তাদের ভাই-ব্রাদারদের মধ্যে কে কে বিএনপি বা জামাতের সদস্য বা নেতা রয়েছে। অতএব, দুষ্কর্ম করেছে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি-জামাতের ক্যাডাররা, ছাত্রলীগের দুষ্কৃতিকারীরা নয়। ‘ছাত্রলীগের কর্মীদের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র’, তারা কি দুষ্কর্ম করে, বা করতে পারে? অনেকে আবার যুক্তি দিতে শুরু করলেন, ছাত্রলীগ একটি বিশাল সংগঠন। এতো বিশালদেহী সংগঠনের এদিকে-ওদিকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অপরাধী ঢুকে পড়তে পারাটা তেমন বড় দোষের কি? তাহলে চিহ্নিত ৮/১০ জনকে গ্রেফতার করতে বিলম্ব কেন? এজাহারে কেন আসামীদের অজ্ঞাতনামা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল? ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেও, গ্রেফতারকৃতরা কারা তা বলা হলো না এবং তাদেরকে আইনানুসারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের সামনে হাজির করা হলো না কেন? কথিত ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ প্রতি সরকারের এহেন দরদী নরম আচরণের কারণ কি? তবে কি এরূপ ‘অনুপ্রবেশকারীরাই’ এখন তাদের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে? যদি তাই হয়ে থাকে তবে কে কাকে ধরবে বা সাফাই করবে? এসব প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর জবাব তাদের কাছে আছে কি? সত্য কথা হলো, এদিকে বলেন আর ওদিকে বলেন, এ দুষ্কৃতিকারীরা কোনখানেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়। তারাই কুকর্মের হোতা। উভয় পক্ষের সংগঠনগুলোকে তারা জিম্মি করে ফেলেছে। ভাড়া খাটা সন্ত্রাসী-অপরাধীদের মতো নানা অপকর্মে লিপ্ত থেকে আখের গুছানোর কাজই হলো তাদের পেশা। সে হিসেবে তারা সমমনা। সুবিধা বুঝে এদিকে বা ওদিকে ‘অনুপ্রবেশ’ করে। প্রয়োজনমতো দলবদলও করে। তা না করলে তাদেরকে মূল্য দিতে হবে কেন? তাদের প্রশ্রয় না দিলে তারা দলবদল করে অপরপক্ষে নাম লেখানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে প্রোটেকশন আদায় করে নেয়। এভাবেই বিএনপি-আওয়ামী লীগ প্রভৃতি দল এদেরই হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। যাদের ওপর আওয়ামী লীগ-বিএনপি এভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তারা দলে বহিরাগত ‘অনুপ্রবেশকারী’ নাকি যারা দলের নিষ্ঠাবান আদর্শবাদী কর্মী তারাই বহিরাগতদের মতো দলে মূল্যহীন, প্রান্তস্থিত, বেমানানের মতো হয়ে পড়েছে? সে সব বেমানান ভালো মানুষরা কি এখনো রুখে দাঁড়াবে না? লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি e-mail : selimcpb@yahoo.com