আগামী দিনের বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৮
সুষ্ঠু, সুন্দর এবং অর্থনীতিতে শক্তিশালী একটি দেশ
দেখতে চাই
দেশের রাজনীতিতে যে কালোমেঘ বিরাজ করছে তাতে করে দেশ এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি মজবুত এবং শক্তিশালী হওয়ার পেছনে কলুষমুক্ত রাজনীতির বড় বেশি প্রয়োজন। রাজনৈতিক হানাহানি এবং হিংস্রতার দরুন দেশে যে অরাজকতা বিরাজ করছে তা নিরসন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে তাহলে তাদেরও বড় মাশুল গুনতে হবে। তৃতীয় শক্তি তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হবে। আইনের শাসন বলতে তখন আর কিছু থাকবে না। দেশ যে গতিতে এগিয়ে চলছিল তা যেন হঠাত্ করেই থমকে গেছে। পোশাক খাত চক্রান্তকারীদের রোষের আগুনে জ্বলছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাংকিং সেক্টরে চলছে নৈরাজ্য। জনশক্তি রপ্তানিতে ধীরগতি। ফলে অর্থনীতির যে চালিকাশক্তি সেখানে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। আর এ অধোগতির পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। দেশের বড় দুই দল যদি এভাবে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে তাহলে দেশের সাধারণ মানুষকে চরম নাকাল হতে হয়। সেটা আগে দেশে রাজনীতি যারা করেন তাদের বুঝতে হবে। সোনার বাংলাদেশ প্রতিহিংসার অনলে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হতে চলেছে। তা প্রতিহত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি গণতান্ত্রিক দেশের রাজপথে প্রকাশ্যে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে কোন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা সমীচীন নয়। তাই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। হরতাল-জ্বালাও-পোড়াও কোন গণতান্ত্রিক দেশের রাজপথের ভাষা হতে পারে না। আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর এবং অর্থনীতিতে শক্তিশালী একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছি।
সাবিকুন্নাহার চাঁদনী
এইচএসসি প্রথমবর্ষ, বিজ্ঞান বিভাগ,
সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ।
স্বপ্ন দেখি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যহীন সমাজের
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর অপার সম্ভাবনাময় আমাদের এ বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে সমৃদ্ধির পথে। আমাদের এ দেশটাকে আর ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে এর সুনাম-সুখ্যাতি, অর্জন করেছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার ‘নোবেল’। এ দেশের রত্ন সন্তানের উদ্ভাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ’ মডেল হিসেবে গ্রহণ করেছে পৃথিবীর শতাধিক রাষ্ট্র। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর’ সাফল্য বিস্ময়ে লক্ষ্য করছে সারা বিশ্ব। কমছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার। বাড়ছে গড় আয়ু। বাড়ছে মাথাপিছু জিডিপির হার। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-সংস্কৃতি, তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি আর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। উন্নতির এসব অগ্রগতির পরও দেশের সকল মানুষ সমানভাবে এর সুফল পাচ্ছে না। তাই কেউ ঘুমুচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঁচতলায়, কেউবা গাছতলায়। অসংখ্য মানুষ এখনো অর্ধাহারে কিংবা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ক্ষুধা আর দারিদ্র্য তাদের ঘিরে আছে অক্টোপাসের মতো। শিকার হচ্ছে বৈষম্যের। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অশান্ত রাজনীতি আর সম্পদের অসম বণ্টন। সরকার এবং বিরোধী দল সর্বদাই অবস্থান করছে বিপরীত মেরুতে। আর এ সুযোগ গ্রহণ করে স্বার্থান্বেষী মহল গড়ে তুলছে সম্পদের পাহাড়। ফলে প্রান্তিক আয়ের মানুষগুলোর পরিবর্তন খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। অথচ রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা আর অর্থনৈতিক সুসম বণ্টন থাকলে অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতি আর জঙ্গিবাদ কখনোই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারত না। আর ভাগ্যের চাকা খুলতে শুরু করত প্রান্তিক আয়ের মানুষের। তাই দেশের কর্ণধারদের কাছে আমাদের তরুণদের প্রত্যাশা, সকল প্রকার প্রতিহিংসা ভুলে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গড়ে তুলুন দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যহীন সমাজ ।
এইচ এম শরীয়াত উল্লাহ
বি এ (সম্মান) ৪র্থ বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,
আগামী দিনে বাংলাদেশকে আমরা সুখী-সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই
আমাদের অনেককে দেখা যায় কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে সুজলা- সুফলা শস্য-শ্যামলা, ফুলে-ফলে ভরপুর বসুন্ধরাকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে যুক্ত হয়ে অধঃপতনের অতল গহবরে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা আমাদের শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে লিপ্ত হই। এ ধরনের রাজনৈতিক হানাহানি এবং কতিপয় লোকের দুর্নীতির কারণে অনেক সময় দেখা যায় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্নের পথে চলে যায়। তারপরও বলব, আমরা অনেক এগিয়েছি। আমাদের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গার্মেন্টস সেক্টর অগ্রসরমান, স্বাস্থ্যসেবার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। সরকারি চাকুরের সংখ্যা বেড়েছে। মহিলাদের কর্মসংস্থান বেড়েছে। জিডিপির হার বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন অগ্রগণ্য। পরিশেষে অর্ধকোটি শ্রমিকের কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যের হার হ্রাস হওয়ায় আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতে আমরা এই সোনার বাংলাদেশকে সুখী-সমৃদ্ধশালী উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারব।
ফারিবা সুলতানা দিনা
বিবিএ ২য় বর্ষ (হিসাব বিজ্ঞান),
সরকারি বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বরিশাল।
আগামীর বাংলাদেশ হবে অর্থনীতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এ বাংলাদেশ। এদেশে রয়েছে মাঠভরা ধান , পুকুরভরা মাছ আর জলভরা দীঘি। প্রকৃতির অপরূপ শ্যামলিমায় মুগ্ধ করে মানব মনকে। এদেশের মাটির উর্বরতা যেন প্রকৃতির অপরূপ দান। এ ভূমির যেখানেই একটি বীজ বোনা হয় সেখানেই চারা গজায় এবং ফসল উত্পন্ন হয়। তাহলে আমরা কেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারব না, যদিও আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় জমি অনেক কম, তারপরও যদি কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ ও সঠিক সময় সার প্রদান করা হয় তাহলে তারা কম জমিতে অধিক ফসল উত্পাদন করতে সক্ষম হবে। এদেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে তিনটি ক্ষেত্র—(১) কৃষকশ্রেণী, (২) গার্মেন্টস শিল্প ও (৩) বাংলাদেশি শ্রমিকদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা। এদেশের যে সরকার যখনই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যদি এ তিনটি সেক্টরকে রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা না করে শুধু এ দেশের সাধারণ মানুষের আয়ের উত্স হিসেবে বিবেচনা করে, এর দেখাশোনা ভালোভাবে করে তাহলে এদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়ে যাবে। বর্তমানে আরও একটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার পথ হলো ফ্রি ল্যান্সিং- এর মাধ্যমে উপার্জন। এদেশের যুবকদের রয়েছে অফুরন্ত ইচ্ছাশক্তি । যদি এদেশের সরকার ইন্টারনেটের খরচ কমিয়ে যুবকদের অন লাইনে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় তাহলে আমরা অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারব ।
সরদার মাহমুদ,
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।