সংবিধান পেতে মিসরে প্রথম দফা গণ-ভোট সম্পন্ন

গণতন্ত্রের পথে আরো এক ধাপ এগোতে সংবিধানের খসড়া অনুমোদনে গণভোট দিয়েছেন মিসরের মানুষ। গত শনিবার প্রথম দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে আগামী শনিবার। পুরো ফলাফল জানা দ্বিতীয় দফা ভোটের পর। তবে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ মুরসির বিরোধীরা এই গণ-ভোট বর্জন না করলেও তাদের সমর্থকদের ‘না’ ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি বিশেষ আদেশ জারি এবং এর পরই তড়িঘড়ি করে সংবিধানের খসড়া তৈরি করে সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে পড়েন মিসরের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি। এরই মধ্যে এই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত আট জন নিহত হয়েছেন। আন্দোলনের মুখে বিশেষ আদেশে সংস্কার করেছেন মুরসি। তবে সংবিধানের ব্যাপারে তিনি কোনো সমঝোতা না করে বরং গত শনিবার গণ-ভোট আয়োজনে দৃঢ় ছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুসারে সংবিধানের খসড়া অনুমোদন প্রশ্নে প্রথম দফার গণ-ভোটে অংশ নিচ্ছেন দেশটির ১০টি প্রদেশের প্রায় দুই কোটি ৫৮ লাখ ভোটার। আগামী শনিবার দেশের বাকি ১৭টি প্রদেশে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় দফার গণ-ভোট। তার পরই প্রকাশ করা হবে গণ-ভোটের ফল। শনিবার সকালেই ভোট কেন্দ্রে হাজির হয়ে নিজের ভোট দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাগুলো। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে—গণ-ভোট উপলক্ষে এক লাখ ২০ হাজার সেনা সদস্য এবং ছয় হাজার সাঁজোয়াযান মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান বিরোধীদলগুলো এই গণ-ভোট স্থগিত করা এবং সংবিধানের খসড়া বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের অভিযোগ—এই সংবিধানে ইসলামপন্থীদের একপক্ষীয় চাওয়া-পাওয়াকে স্থান দেয়া হয়েছে এবং সমাজের অন্যান্য ধর্ম ও আদর্শের মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়নি। মুরসি-বিরোধীদের জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট (এনএসএফ) শুরুতে গণভোট প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেও পরে সমর্থকদের ‘না’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানায়। মিসরের অন্যতম বিরোধী নেতা এবং শান্তিতে নোবেল পদক বিজয়ী কূটনীতিক মোহাম্মদ এলবারাদি টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘যে বিতর্কিত সংবিধানের খসড়ায় সর্বজনীন অধিকার, মূল্যবোধ ও স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে, সেটির অনুমোদন অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত বাড়িয়ে দেবে।’ গত শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। মুরসি কায়রোতে প্রেসিডেন্ট প্যালেসের কাছের একটি কেন্দ্রে ভোট দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গণ-ভোটে সহিংসতার আশঙ্কায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় আড়াই লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেনাসদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে ট্যাংক ও সাঁজোয়াযান মোতায়েন ছিল। স্বল্পসংখ্যক বিচারকও গণ-ভোটে দায়িত্ব পালন করেন। কায়রোর একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে মুরসির সমর্থক আদেল ইমাম (৫৩) বলেন, ‘আমি সংবিধানের খসড়া পড়ে দেখেছি। এই সংবিধানের মাধ্যমে মুরসি একনায়কত্ব কায়েম করতে পারবেন না।’ আলেকজান্দ্রিয়ার একটি স্কুলের শিক্ষক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মাইকেল নুর (৪৫) বলেন, “আমি ‘না’ ভোট দিয়েছি। কারণ, এই সংবিধান মিসরে প্রতিটি নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে না।” বিরোধীদের অভিযোগ—খসড়া সংবিধান এমনভাবে করা হয়েছে, যা মিসরের জনগণের মধ্যে বিভক্তি আনবে। তবে প্রেসিডেন্টের সমর্থকরা বিরোধীদের এই অভিযোগকে মিথ্যাচার বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।